নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডোবা কিংবা কোনও পুকুর নয় ছিল ১৬ বিঘা আয়তনের বিশাল একটি লেক। সেটি বাম আমলে একটু একটু করে বুজিয়ে তৈরি হয় বাড়ি, কারখানা। এই কাজের ফলে ওই এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হাওড়ার ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। বর্ষা আসছে। আবার যন্ত্রণা বাড়বে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে জমা জলের কষ্ট থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে পরিকল্পনা নিয়েছে হাওড়া পুরসভা।
এই ওয়ার্ডের কামারডাঙা, শিয়ালডাঙা এলাকায় কয়েক হাজার পরিবারের বাস। এখানকার নিকাশির জল বের করার জন্য আছে মাত্র চারটি ড্রেন। সেগুলি জল নিকাশির কাজের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে বছরভর নিকাশির সমস্যা একই রয়ে যায়। বর্ষার সময় যন্ত্রণা বাড়ে কয়েকগুণ। বাসিন্দাদের দাবি, ড্রেন সাফ করলে বা পুরসভা পাম্প চালালেও কাজের কাজ তেমন হয় না। বর্ষার সময় নিচু জায়গার বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়। সারা বছরই জমা জলের সমস্যা থাকে।
সম্প্রতি ওই এলাকার নিকাশি উন্নয়ন ব্যবস্থা দেখতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। পরিদর্শনের সময় বাম আমলে বুজিয়ে ফেলা জলাশয়টির বিষয়টি সামনে আসে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে পরিকল্পিতভাবে দিঘির চারপাশে মাটি ফেলে একটু একটু করে ভরাটের কাজ শুরু হয়। দশ বছরের মধ্যে উধাও হয়ে যায় গোটা লেক। সেখানে বাড়িঘর, ছোট ছোট কারখানা গজিয়ে ওঠে। লেক বুজিয়ে ফেলার বহু বছর আগে জমির চরিত্র বদলের কাজও করে ফেলা হয়েছিল বলে ধারণা পুরসভার।
মুখ্য প্রশাসক বলেন, ‘বাম পুরবোর্ডের এই কাজের ফলে শুধু ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড নয়, আশপাশের কিছু এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাও বেহাল হয়ে পড়েছে। মাত্র চারটি ড্রেন দিয়ে এত বড় ওয়ার্ডের জল বের করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।’
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী বর্ষায় জমা জলের ভোগান্তি বন্ধ করতে বিকল্প নিকাশি ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান ড্রেনগুলোর পরিধি ও গভীরতা বাড়ানো যায় কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।