অপু রায়, নকশালবাড়ি: শিলিগুড়ি শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা চলে এসেছে। গ্রামীণ এলাকাতেও জোরদার দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি চলছে। এদিকে, প্রায় দিনই শিলিগুড়ি মহকুমার বনদপ্তরের কার্শিয়াং ডিভিশনের অধীন জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামে হানা দিচ্ছে হাতির পাল। কখনও খেতের সব্জি তছনছ করছে, কখনও কাঁচা বাড়ি ভেঙে দিচ্ছে।
বনদপ্তরের দাবি, হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখছে তারা। মূলত জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামের রাস্তা ও হাতির করিডরে সম্প্রতি বসানো সিসি ক্যামেরায় সর্বক্ষণ নজর রাখছেন বনকর্মীরা। হাতি লোকালয়ে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে যাতে বনদপ্তরের টিম পৌঁছে জঙ্গলের দিকে তাড়িয়ে দিতে পারে তারজন্য প্রস্তুত রয়েছে ক্যুইক রেসপন্স টিম।
কার্শিয়াং ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের এক্তিয়ারভুক্ত টুকরিয়াঝার, বাগডোগরা ও পানিঘাটার জঙ্গলে বর্তমানে ১৫০টি হাতির দল ঘাঁটি গেড়েছে। বিকেলের পর থেকেই হাতিগুলি ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামে চলে আসছে। এশিয়ান হাইওয়ে-২, রাজ্য সড়ক পারাপার করছে হাতির দল। এতে গ্রামের পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি শহর থেকে গ্রামে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বিপাকে পড়তে পারেন। তাই পুজোর দিনগুলিতে বাড়িতি নজরদারি চালানোর ব্যাপারে মিটিং করে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কার্শিয়াং বনবিভাগ।
এনিয়ে কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, ১৫০টির বেশি হাতি রয়েছে। যা ডিভিশনের বিভিন্ন জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখতে বিভিন্ন রেঞ্জে হাতির করিডরে প্রায় ৬০টি সিসি ক্যামেরা সম্প্রতি বসানো হয়েছে। আমাদের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টাই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চলাচ্ছেন। বিভিন্ন রেঞ্জে কিউআর টিম গঠন করা আছে। এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের দু’টি টিম সর্বদা প্রস্তুতি আছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে নকশালবাড়ির কিরণচন্দ্র চা বাগান সংলগ্ন এশিয়ান হাইওয়ে-২’তে প্রায়ই সন্ধ্যার পর হাতি উঠে আসছে। পাশাপাশি নকশালবাড়ি থেকে ঘোষপুকুরগামী রাজ্য সড়ক, নকশালবাড়ি থেকে পানিঘাটাগামী রাজ্য সড়কে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে হাতির করিডর আছে। যেগুলিতে বিশেষ নজর রাখছেন বনকর্মীরা।