সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: হরিপাল কেন্দ্রে বিরোধীদের ভোটের প্রচারে থাকছে বাসস্ট্যান্ড, স্বাস্থ্য পরিসেবা সহ একাধিক স্থানীয় সমস্যার কথা। অন্যদিকে, তৃণমূল গত ১৫ বছরের উন্নয়নকে সামনে রেখেই ভোটের ময়দানে নেমেছে। প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার ভোটারের কেন্দ্র হরিপালে মোট ১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে পরপর দু’বার জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী বেচারাম মান্না। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন বেচারামের স্ত্রী করবী মান্না।
তৃণমূল প্রার্থী করবী মান্না গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের বার্তা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের দরজায়। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে হরিপালের প্রত্যন্ত গ্রামের প্রায় প্রতিটি কাঁচা রাস্তা ঢালাই হয়েছে। লেগেছে একাধিক হাইমাস্ট আলো। তৈরি হয়েছে ১০০ শয্যার হাসপাতাল। হরিপালের কানানদী, মেটেখাল, কৌশিকী, ডাকাতিয়া খালের উপর সব মিলিয়ে ১৯টি সেতু নির্মাণ হয়েছে। নারায়ণপুর, বাহিরখণ্ড, তাজপুর গ্রামে শিশুদের পড়াশোনার জন্য আগে কোনো প্রাইমারি স্কুল ছিল না। ওই গ্রামে নতুন করে প্রাইমারি স্কুল নির্মাণ হয়েছে। রাস্তার পাশে তৈরি হয়েছে একাধিক জলসত্র। কবরস্থান, শ্মশানগুলির সংস্কার করা হয়েছে। ১৫টি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১৭টি কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প নির্মাণ হয়েছে এই সময়কালে।
করবী দেবীর দাবি, এবার ক্ষমতায় এসে এলাকায় বাসস্ট্যান্ড, ছাত্রীদের জন্য আলাদা স্কুল নির্মাণ করব। একটি হিন্দি মিডিয়াম স্কুল রয়েছে, সেটিকে মাধ্যমিক স্তরে উত্তীর্ণ করা হবে। ১০০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকার চাষিদের কথা মাথায় রেখে হরিপালে তৈরি হবে বহুমুখী হিমঘর।
প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী মধুমিতা ঘোষ হরিপালের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সহ একাধিক বিষয় নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘ভোটে জয়লাভ করলে হরিপালে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে মহিলারা তিন হাজার টাকা করে পাবেন। এই রাজ্যে মহিলারা সুরক্ষিত নন। ভাতা দিয়ে যুব সমাজকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা কাঁদছেন। আলুর থেকে বস্তার দাম বেশি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সহ সমস্ত প্রকল্প পেতে হলে দিতে হচ্ছে কাটমানি।’
অন্যদিকে হরিপালের বামজোটের আইএসএফ প্রার্থী শেখ মুজফফর আলি হরিপালে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। এলাকায় সকলে তাঁকে মাজা নামে চেনেন। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার সময় তিনি এখানে তৃণমূলের নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি দলবদল করে আইএসএফে যোগ দেন। শেখ মুজফফর আলি প্রচারে বেরিয়ে বেচারাম ও করবী মান্নার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরছেন। তিনি বলছেন, বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রকৃত তৃণমূল কর্মীদের দল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, যাতে মান্না পরিবার পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে পারে। তৃণমূল কর্মীদের একাংশ বকলমে পঞ্চায়েতের ঠিকাদার। তৃণমূলের মদতেই জলাশয় ভরাট করে একাধিক নির্মাণ গড়ে উঠছে। বেশ কয়েক বছর আগে দ্বারহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের কনকপুরে ৭৬ জনকে পাট্টা দেওয়া হয়েছিল। এখনও তাঁরা জায়গা পাননি বলে অভিযোগ। পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তৃণমূলের একাধিক সক্রিয় নেতা গোপনে যোগাযোগ করছেন আমাদের সঙ্গে।