শব্দদূষণের প্রতিবাদ করে খুন হয়েছেন ১৫ জন! শহিদদের তালিকা নিয়ে ঘুরবে ট্যাবলো
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। মহালয়ার ভোর। রাতভর বিকট শব্দে বাড়ির সামনেই ফাটানো হচ্ছিল শব্দবাজি। হালিশহরের পূর্ব কবিরাজপাড়ার ৭৭ বছরের বৃদ্ধা বকুল অধিকারী ওই আওয়াজে অসুস্থবোধ করছিলেন। বাড়ির দরজায় বেরিয়ে শব্দদূষণের প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। পরিণাম, প্রাণ হারাতে হয়েছিল তাঁকে। যে যুবকরা বাজি ফাটিয়ে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিল, তারাই ক্ষিপ্ত হয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করেছিল তাঁকে। শুধু বকুলদেবী নন। ১৯৯৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত (৩ মার্চ, ২০২৬) শব্দদূষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাংলায় প্রাণ হারাতে হয়েছে ১৫ জন নিরীহ নাগরিককে! তাই নিষিদ্ধ শব্দবাজি, শব্দ-ধোঁয়ার অত্যাচারের বিরুদ্ধে নাগরিকদের সচেতন করছে সবুজ মঞ্চ। ওই সংগঠনের অভিনব উদ্যোগেই এবার শব্দ শহিদের নামের তালিকা নিয়ে ট্যাবলো ঘুরবে কলকাতা শহরে।

Advertisement

নিষিদ্ধ শব্দবাজি নিয়ে প্রতিবারই সচেতনতায় নামে পরিবেশকর্মীদের নিয়ে গঠিত সবুজ মঞ্চ। এবার নাগরিক সমাজকেও যুক্ত করছে তারা। কালীপুজো ও দীপাবলির আগে নিষিদ্ধ শব্দবাজি নিয়ে লিফলেট তৈরি করেছে তারা। সবুজ মঞ্চের দাবি, শুধুমাত্র সবুজ বাজি ব্যবহার করুন। তাও কালীপুজো ও দীপাবলির রাতে নির্ধারিত সময় ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে। তার আগে বা পরে নয়। সেই সঙ্গে হাসপাতাল, নার্সিংহোম প্রভৃতি যেসব এলাকায় শব্দ নিয়ন্ত্রিত, সেখানে কোনোভাবেই বাজি ফাটানো যাবে না। সংগঠনের দাবি, নির্ধারিত সময়ের পরেও যদি বাজি ফাটে, তাহলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে।
সবুজ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক নব দত্ত বলেন, আমরা আলোর উৎসব চাই। শব্দ ও ধোঁয়ার অত্যাচার নয়। কেউ কি ভেবে দেখেছেন, ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত শব্দদূষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাংলায় ১৫ জন খুন হয়েছেন! শুধু তাই নয়। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই রাজ্যে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ফলে মারা গিয়েছেন ২১১ জন! এর মধ্যে শিশু ও মহিলা রয়েছে। অনেক পরিবার যথাযথ ক্ষতিপূরণও পায়নি। প্রভাবশালীদের কিছু হয়নি। তাই নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। এবার আমরা কলকাতা শহরে আগামী ৬ অক্টোবর একটি ট্যাবলো বের করব। সেখানে বাংলার ১৫ জন শব্দ শহিদের নামের তালিকা থাকবে। কোনো বিষাদ, অসুস্থতা নয়। আমরা চাই, আলোর উৎসব সবার জন্য যেন আনন্দমুখর হয়ে উঠুক।