সংবাদদাতা, কল্যাণী: চাকদহে ব্যাঙ্ক ডাকাতির পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও দুষ্কৃতীদের নাগাল পেল না পুলিস। চলছে তদন্ত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাকদহ বাসস্ট্যান্ডের কাছে বেসরকারি ব্যাঙ্কের স্বর্ণ ঋণ প্রদানকারী শাখায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। বুধবার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, সংস্থা থেকে প্রায় ১৫ কেজি সোনার গয়না লুট করেছে দুষ্কৃতীরা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে চাকদহ পুলিস। ব্যাঙ্ক বন্ধ করার কিছুক্ষণ আগের মুহূর্তে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। দু’জন মুখে কাপড় বেঁধে ঢুকে কর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভল্ট থেকে প্রচুর পরিমাণ সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই দুষ্কৃতী শহরের দিক থেকে একটি বাইকে চেপে মুখে কাপড় বেঁধে ব্যাঙ্কে প্রবেশ করেছিল। সেই সময় ব্যাঙ্কে চারজন কর্মচারী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কোনও নিরাপত্তা রক্ষী সেই সময় ব্যাঙ্কে ছিল না। দুষ্কৃতীরা ব্যাঙ্কে ঢুকেই কর্মীদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভল্ট খুলতে বাধ্য করে। এরপর সেখান থেকে সোনার গয়না লুট করে বাইক নিয়ে জাতীয় সড়কের চাকদহ চৌমাথার দিকে চলে যায়। যাওয়ার সময় ব্যাঙ্কের শাটার নামিয়ে দিয়ে যায় তারা। দুষ্কৃতীরা ব্যাঙ্কের মধ্যে মিনিট সাতেক ছিল বলে জানা গিয়েছে। ডাকাতি চলার সময় বাইরে থেকে স্থানীয়রা কেউ কিছু বুঝতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে ব্যাঙ্কের কর্মচারীরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। রানাঘাট পুলিস জেলার আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, বিহারের কোনও দুষ্কৃতী গ্যাং এই ঘটনা সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তারা আগে থেকে একাধিকবার এলাকার রেকি করেছিল। এই বিষয়ে রানাঘাট পুলিস জেলার পুলিস সুপার আশিস মৌর্য বলেন, দুষ্কৃতীরা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে এসেছিল। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখছি। ব্যাঙ্কে নিরাপত্তা রক্ষী কেন ছিল না সেটাও দেখা হচ্ছে।