নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এক, দুই, তিন নয়, শান্তিপুর শহর থেকে ১৪ জন সাঁতারু অংশ নিল জাতীয়স্তরের জন্য রাজ্যের বাছাইপর্বে। নদীয়া জেলায় সর্বমোট ২৫ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে অধিকাংশই শান্তিপুরের। যা পুরসভার তরফে তৈরি ‘ঝিলমিল’ সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ এখান থেকেই ওই ১৪ জন তালিম নিয়েছে।
শান্তিপুরের মানুষের দাবি মেনে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিসি রায় রোডে তৈরি করা হয়েছিল একটি সুইমিং পুল ও সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ঝিলমিল’। কিন্তু, করোনা পর্বে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল পুলের ‘ফ্লোরিং’। খারাপ হয়ে যায় জল তোলা এবং বের করার মেশিন। পুলের আশপাশ ভরে গিয়েছিল আগাছায়। মাঝে বেশ কয়েকবার টেন্ডার করে সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি শান্তিপুর পুরসভা খোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, সেই টেন্ডারে কেউ সাড়া দেয়নি।
তবে বেশ কয়েক মাস আগে সমস্ত বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। তাতে আগ্রহী ‘বিড’ পাওয়া যায়। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে পুরসভা প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলে সুইমিং পুলটি। কম গভীরতার কারণে আগে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সি সাঁতারুদের প্রশিক্ষণের উপযোগী ছিল পুলটি। নতুনভাবে সংস্কারের পর এবার বয়স ভেদে পুলের বিভিন্ন অংশের গভীরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সি শিক্ষানবিশরা একসঙ্গেই প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন।
এছাড়াও আগে একটি শিফটে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ছ’টি শিফট করা হয়। ছ’মাসের প্রশিক্ষণের খরচ হিসেবে পুরসভা নেবে তিন হাজার টাকা। এই সুইমিংপুল উদ্বোধন হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই চলে আসে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতা। যা শুক্র ও শনিবার আয়োজিত হচ্ছে কলকাতার লেকটাউনে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে সাঁতারুরা সেখানে অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে রয়েছে নদীয়া জেলাও। সমস্ত প্রতিযোগীর মধ্যে থেকেই বাছাই করে নেওয়া হবে জাতীয়স্তরের প্রতিযোগীকে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নদীয়া জেলা থেকে ২৫ জন গিয়েছেন। তার মধ্যে ১৪ জন শান্তিপুর শহরের বাসিন্দা। তারা সকলেই সদ্য উদ্বোধন হওয়া ‘ঝিলমিল’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থী। ১৪ বছর থেকে ৪০ বছর বয়সি প্রতিযোগী রয়েছেন। ফলে উদ্বোধনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যস্তরের বাছাই পর্বে এতজন প্রতিযোগী পাঠানো বড় সাফল্য বলেই মনে করছে পুরকর্তৃপক্ষ।
শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা খুব কম সময়ে এত সাঁতারু তৈরি করতে পেরেছি। যদি এখান থেকে কেউ জাতীয় স্তরে সুযোগ পায়, তাহলে পুরসভা তাকে সমস্ত রকম সহযোগিতা করবে। -নিজস্ব চিত্র