সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘পাঁচ টানেতে মাটি ছেড়ে শূন্যে ওঠা যায়/ছয় টানেতে আকাশেতে ভেসে থাকা যায়…’ ছেলেটি ক’টান টেনেছিল ভগবান জানে। সে টানে প্রায় হাজার কিলোমিটার রাস্তা উজিয়ে চলে এসেছে বনগাঁয়। কিছু নাকি মালুমই পায়নি সে।
সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘পাঁচ টানেতে মাটি ছেড়ে শূন্যে ওঠা যায়/ছয় টানেতে আকাশেতে ভেসে থাকা যায়…’ ছেলেটি ক’টান টেনেছিল ভগবান জানে। সে টানে প্রায় হাজার কিলোমিটার রাস্তা উজিয়ে চলে এসেছে বনগাঁয়। কিছু নাকি মালুমই পায়নি সে।
ছেলেটির বয়স মেরেকেটে তেরো বছর। নেশার টানে আচ্ছন্ন হয়ে লরিতে চেপে মধ্যপ্রদেশ থেকে চলে আসে বনগাঁ। মঙ্গলবার রাতে মতিগঞ্জ এলাকায় এদিক ওদিক ঘুরছিল। পুলিসের চোখে পড়ে। ওর হাবভাব দেখে সন্দেহ হওয়ায় থানায় আনে পুলিস। তারপর সব শুনে চোখ কপালে তদন্তকারীদের। এরপর কিশোরটির বাড়ির ঠিকানা জানার জন্য হ্যাম রেডিও’র সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিস। হ্যাম খোঁজখবর করে জানতে পারে, মধ্যপ্রদেশের হারদিয়া জেলার মন্দিয়া গ্রামে বাড়ি ছেলেটির।
হ্যাম রেডিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গিয়েছে, সে মন্দিরার একটি স্থানীয় স্কুলের ছাত্র। স্কুলে যাওয়ার নাম করে মাঝেমধ্যে দূরপাল্লার গাড়ি চালকদের গাঁজা ও অন্যান্য নেশার জিনিস এনে দিত। দীর্ঘদিন ধরে এইসব কাজ করছিল। তা করতে করতে নিজেও হয়ে পড়ে মাদকাসক্ত। সেই নেশার ঘোরেই এক গাড়ি চালকের সহকারী হিসেবে চলে আসে বনগাঁ। তবে অন্য একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কিশোরটির বাবা-মা নিজেরাই ছেলেকে গাড়ির হেলপারের কাজে লাগিয়েছিলেন। সেই কাজ করতে গিয়েই নতুন জায়গায় চলে আসে। বনগাঁয় নেমে এদিক ওদিক ঘুরতে গিয়ে দিক ভুল করে হারিয়ে যায়। ওয়েস্ট বেঙ্গল হ্যাম রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস যদিও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ছেলেটি নেশার ঘোরে গাড়িতে করে বনগাঁ চলে আসে। এই অল্প বয়সে এই ঘটনা ওর কাছে একটি ধাক্কা। এর থেকে ছেলেটি শিক্ষা নিয়ে হয়ত জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসবে। ওর থেকে অন্যরাও শিক্ষা নেবে।’ জানা গিয়েছে, কিশোরটিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বনগাঁ আসছে ওর পরিবার।