Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিশীথের বৈঠকে হাজির উত্তরের ১৩ তৃণমূল বিধায়ক, শুরু জল্পনা, দরজা খোলা রাখার বার্তা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকে শামিল তৃণমূল কংগ্রেসের ১৩ জন বিধায়ক।

নিশীথের বৈঠকে হাজির উত্তরের ১৩ তৃণমূল বিধায়ক, শুরু জল্পনা, দরজা খোলা রাখার বার্তা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সুব্রত ধর, কামরাঙাগুড়ি (জলপাইগুড়ি): উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকে শামিল তৃণমূল কংগ্রেসের ১৩ জন বিধায়ক। সোমবার উত্তরকন্যায় মিটিংয়ের পর ওই বিধায়কদের কেউ বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আবার কেউ সরকার পক্ষের ডাকা সভায় যোগ দিয়ে উদাহরণ তৈরি করেছেন বলে দাবি করেন। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভার মতো এখানেও বিরোধীরা শামিল হওয়ায় রাজনীতির আঙ্গিনায় শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।  

Advertisement

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর দাবি, এতদিন রাজ্যে গণতন্ত্র ছিল না। ‘রামরাজত্ব’ প্রতিষ্ঠিত  হওয়ায় পর রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা এই সভা থেকেই স্পষ্ট। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শামিল হতে সবার জন্যই দরজা খোলা। 
মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, বিগত তৃণমূল সরকার প্রশাসনিক কাজকর্মকে রাজনীতিকরণ করেছিল। আমাদের দল তা চায় না। প্রশাসন প্রশাসনের মতো চলবে বলেই দল বার্তা দিয়েছে। তাই আমাদের সরকারের সভায় বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিরাও ছিলেন।
এদিন রাজ্যের মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যায়’ বন্যা ও নদী ভাঙন মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রের খবর, বৈঠকে উত্তরবঙ্গের আট জেলার ৫৪ জন বিধায়ক এবং ৮ এমপিকে  আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ৫৪ জন বিধায়কের মধ্যে ৪০ জন বিজেপির এবং ১৪ জন তৃণমূলের। বৈঠকে তৃণমূলের ১৩ জন সহ বিজেপির অধিকাংশ বিধায়ক ও দু’জন এমপি খগেন মুর্মু ও জয়ন্ত রায় হাজির ছিলেন।
হরিরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তনমন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রাক বর্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এই সভা ভালো হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে সকলের কাছ থেকেই জানতে চেয়েছেন মন্ত্রী। গোয়ালপোখরের বিধায়ক প্রাক্তন মন্ত্রী গোলাম রাব্বানি বলেন, বিধায়ক হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলাম। তাই এসেছি। এটা ভালো পদক্ষেপ। আমরা যখন সরকারে ছিলাম, তখন বিরোধীরা সভায় আসতেন না। আমরা সরকারের প্রথম সভায় এসে নজির তৈরি করলাম।
তৃণমূল বিধায়ক বিপ্লব ও রব্বানি দু’জনের দাবি, দলের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁরা প্রশাসনিক সভায় এসেছেন। দলে কোনো সমস্যা নেই। উত্তরবঙ্গে সকলেই ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। দল ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ইঙ্গিতবহ বার্তা দিয়েছেন। বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেখানো পথেই  চলছি। তাই আমরা কোনো দল দেখি না। বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, তাঁরা মানুষের ভোটে জিতে এসেছেন। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদেরও অংশ নেওয়ার অধিকার আছে  বলেই মনে করি। কাজেই, তাঁরা যদি খোলা মনে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শামিল  হতে চান, তাঁদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ