কুয়ালালামপুর, ৮ মার্চ: ১২ বছর আগে আজকের দিনেই আকাশপথে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ ৩৭০ যাত্রীবাহী বিমান। পর পর চালানো হয় অনুসন্ধান কিন্তু ফল শূন্য। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে নতুন করে চালানো গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানেও বিমানটির ধ্বংসাবশেষের কোনও নিশ্চিত সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। এখনও নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারের চোখে ঘুম নেই। এখনও তাঁরা অপেক্ষা করেন পরিবারের নিখোঁজ সদস্যের। তাঁরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন বরাবর।
একটা আস্ত বড় বিমান কীভাবে মাঝ আকাশে ২৩৯ জন যাত্রীকে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায় সেই রহস্য আজও অজানা। মালয়েশিয়ার এয়ার অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানায়, তারা গত বছর টেক্সাস ভিত্তিক সংস্থা ওশান ইনফিনিটিকে নতুন করে বিমানটির অনুসন্ধানের অনুমতি দেয়। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের প্রায় ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ‘নো-ফাইন্ড, নো-ফি’ চুক্তির ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান চালানো হয়। অর্থাৎ বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলে তবেই সংস্থাটিকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হবে এমন চুক্তি সাক্ষর করা হয়। সমুদ্র গবেষণা সংস্থা 'ওশান ইনফিনিটি' ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের সমুদ্রতলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনুসন্ধান চালায়। হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা তল্লাশি করেও এখনও পর্যন্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষের কোনও প্রমাণই খুঁজে পায়নি তারা। তাদের এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়, গত বছরের ২৫ থেকে ২৮ মার্চ এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই দফায় মোট ২৮ দিন ধরে অনুসন্ধান চালানো হয়। এই সময়ে প্রায় ৭,৫৭১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রতল তল্লাশি করা হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বহুবার তল্লাশি পিছিয়ে গেলেও থেমে থাকেনি তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৮ মার্চ মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে বেজিং যাওয়ার পথে ২৩৯ জন যাত্রীকে নিয়ে বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিমানটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যায়। তারপর কোনও খবর মেলেনি বিমানটির। পরে পূর্ব আফ্রিকার উপকূল ও ভারত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপে কিছু ধ্বংসাবশেষ ভেসে এলেও মূল বিমানের অংশ এখনও রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ অবস্থাতেই থেকে গিয়েছে। সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সরকারের কাছে ওশান ইনফিনিটির অনুসন্ধান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজদের পরিবার। পাশাপাশি অন্য অনুসন্ধানকারী সংস্থাগুলিকেও একই ধরনের ‘নো-ফাইন্ড, নো-ফি’ চুক্তিতে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।