Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২০১২ সালে যুক্ত হওয়া ১১৩ জাতিগোষ্ঠী তালিকা থেকে বাদ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ওবিসি বিল পাশ, ১১৩ জাতিগোষ্ঠী তালিকা থেকে বাদ। বিরোধী পক্ষের উদ্বেগ সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত। বিস্তারিত পড়ুন।

২০১২ সালে যুক্ত হওয়া ১১৩ জাতিগোষ্ঠী তালিকা থেকে বাদ
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য বিধানসভায় পাশ হল ওবিসি সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল। দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান এসসি অ্যান্ড এসটি) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) এবং দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬। প্রথম বিলটির মাধ্যমে তৃণমূল আমলের ২০১২ সালের আইনে সংশোধনী প্রস্তাব করা হল। দ্বিতীয়টির মাধ্যমে ১৯৯৩ সালের আইন সংশোধন করে রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা আরও সুস্পষ্ট করার উদ্যোগ নিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। এর জেরে যে ১১৩টি জাতিগোষ্ঠীকে তালিকা থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট, তা কার্যকর হল। এই জাতিগোষ্ঠীগুলিকে বাতিল ঘোষণা করা হচ্ছে। থেকে যাচ্ছে পূর্ববর্তী আইন অনুসারে তালিকাভুক্ত হওয়া ৬৬টি জাতি।

Advertisement

সোমবার বিধানসভায় বিল নিয়ে আলোচনায় অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরিশংকর ঘোষ জানান, ‘পূর্বতন সরকার কমিশনকে এড়িয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ও বিশেষ সম্প্রদায়কে তোষণ করতে ১১৩টি জাতিগোষ্ঠীকে এই তালিকাভুক্ত করেছিল। মহামান্য হাইকোর্টের রায় ছিল, এই সংযোজন সাযুজ্যপূর্ণ নয়। কেবলমাত্র সেই তালিকা বাতিল করা হচ্ছে।’
তবে এদিন বিল নিয়ে আলোচনায় যোগ্য জাতির বাদ পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিরোধী পক্ষের চার বিধায়ক। সেই আশঙ্কা উড়িয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ৬৬টি জাতিগোষ্ঠীকে বজায় রেখে আগামীতে কমিশন যদি আরও কোনো জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করে, সেক্ষেত্রে রাজ্য তা বিবেচনা করবে।  কোনো জাতিগোষ্ঠীকে শিক্ষা এবং সামাজিক ক্ষেত্রে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার প্রয়োজন হলে, কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে এবং রাজ্য সরকার সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারবে।’ 
এদিন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এই ওবিসি বিলের বিরোধিতা করে ভোটাভুটির দাবি করেন। বিলের সমর্থনে ১৮৬টি ভোট পড়ে। বিরোধিতা করেন ১৭ জন। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন ৬ বিধায়ক। তৃণমূলের কালিঘাট শিবিরের বিধায়করা ভোটাভুটিতে অংশ নিলেও, ওয়াকআউট করেন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়করা। তবে ঋতব্রতপন্থী কয়েকজনকে বিধানসভা কক্ষে থেকে যেতে দেখা যায়। যদিও ঋতব্রতর দাবি, ভোটাভুটির সময় কক্ষের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আটকে গিয়েছিলেন। কালীঘাটপন্থী তিন বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে বিকেলে গুন্ডাদমন বিলের ভোটাভুটির সময় ১৭৬টি ভোট পড়ে বিলের স্বপক্ষে। ২০ জন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ভোটদান দেওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং ৪৫ জন ঋতব্রতপন্থী বিধায়কের মধ্যে বিপক্ষে ভোট দেন ৪১জন। বাকি ৪ জন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন বলেও দাবি করেছেন কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ