


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক:
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দাবিদারহীন ৫লক্ষ ৯১৮০ব্যাঙ্ক ও বিমার অ্যাকাউন্টে ১০৩কোটি ৬৫লক্ষ টাকা পড়ে রয়েছে! ১০বছর কিংবা তার বেশি ওইসব অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়নি। অথচ, বহু অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা পড়ে রয়েছে। এরমধ্যে সরকারি অ্যাকাউন্টও রয়েছে। ওইসব টাকা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অন্তর্গত ডিপোজিটর্স এডুকেশন অ্যাওয়ারনেস ফান্ডে জমা পড়ে রয়েছে। ১-৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এভাবে দাবিদারহীন অ্যাকাউন্টে টাকা উপযুক্ত গ্রাহক কিংবা উত্তরসূরি খুঁজে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ‘আপনার পুঁজি আপনার অধিকার’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর ডিএম অফিসে উচ্চ পর্যায়ের মিটিং হয়। সেখানে স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির(এসএলবিসি) কনভেনর বলবীর সিং, নাবার্ডের ডিস্ট্রিক্ট অফিসার পিকু দাস, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই জেলার লিড ম্যানেজার বিবেক ভারতী, পূর্ব মেদিনীপুরের লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার রাকেশ মিশ্র সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এদিন বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অফিসার ও ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দাবিদারহীন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ২২৫জনকে চিহ্নিত করে ৬৭লক্ষ টাকা অ্যাকাউন্টে ফেরানো হয়।
পূর্ব মেদিনীপুরে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে সর্বাধিক ২লক্ষ ১৩হাজার ৯৭অ্যাকাউন্টে ১০বছর কিংবা তার বেশি কোনও লেনদেন হয়নি। ওইসব অ্যাকাউন্ট দাবিদারহীন বা আনক্লেমড হিসেবে চিহ্নিত। তাতে জমা থাকা টাকার পরিমাণ ৩৩কোটি ৬৫লক্ষ টাকা। এছাড়াও এসবিআই ব্যাঙ্কে ৪৮হাজার ১৩টি দাবিদারহীন অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে ২৩কোটি ৫৮লক্ষ টাকা। ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কে ৬০হাজার ৮০টি এরকম অ্যাকাউন্টে ১০কোটি ২৮লক্ষ টাকা জমা রয়েছে। ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় ২০হাজার ৫৮০টি দাবিদারহীন অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩কোটি ৬৬লক্ষ টাকা।
শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক নয়, সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কেও দাবিদারহীন প্রচুর অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি পড়ে আছে। এই জেলায় মুগবেড়িয়া, বলাগেড়িয়া এবং কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কে ৮১হাজার ১১২টি দাবিদারহীন অ্যাকাউন্টে ১১কোটি এক লক্ষ টাকা জমা আছে। তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে ৩১হাজার ৫৫৬টি অ্যাকাউন্টে জমা ৪কোটি ৩২লক্ষ টাকা। এছাড়াও এলআইসিতে ৪০৪৮টি দাবিদারহীন অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে আরও প্রায় আট কোটি টাকা।
জানা গিয়েছে, বেশকিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকের মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ। ১০বছর কিংবা তারও বেশি সময় লেনদেন না হওয়ায় সেইসব টাকা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঘরে চলে গিয়েছে। ১অক্টোবর থেকে ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে সেইসব অ্যাকাউন্ট হোল্ডার কিংবা তাঁদের উত্তরসূরিদের চিহ্নিত করে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
বৃহস্পতিবার দাবিদারহীন ২২৫টি অ্যাকাউন্টে ৬৭লক্ষ টাকা ফেরানো হল। জগদীশচন্দ্র আদক নামে একজনের অ্যাকাউন্টে থাকা ১৩লক্ষ ৬১হাজার ৮৬৭টাকা ফেরানো হল। গ্রাহক মারা যাওয়ায় উত্তরসূরিদের চিহ্নিত করে টাকা ফেরানো হচ্ছে। গোটা রাজ্যে এরকম ৯০লক্ষ অ্যাকাউন্টে ৩৪৪১কোটি টাকা পড়ে রয়েছে।
আনক্লেমড অ্যাকাউন্ট খোঁজার জন্য পোর্টাল চালু করা হয়েছে। ব্যাঙ্কে সেভিংস কিংবা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ছাড়াও মিউচুয়াল ফান্ড, ইন্সুরেন্স, ডিভিডেন্ট অ্যান্ড শেয়ার সহ নানা খাতে দাবিদারহীন কোটি কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। এসএলবিসির কনভেনর বলবীর সিং বলেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেশজুড়ে দাবিদারহীন অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকা গ্রাহক কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ১অক্টোবর থেকে ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত স্পেশাল ড্রাইভ চলবে। সারা দেশে এরকম ১লক্ষ ৮২হাজার কোটি টাকা রয়েছে।