সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বেআইনিভাবে আবাস যোজনার বাড়িও ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ ঘিরে উত্তাল নামখানার হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। বিজেপি কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পঞ্চায়েত অফিসের সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। এমনকী গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের দেখে চোর চোর স্লোগানও দেন। জানা গিয়েছে, সোমবার এই গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রাম সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভাতেই স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ১০০ দিনের কাজ করেও ন্যায্য মজুরি পাননি। কাজের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজাররা সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি যোগ্যদের আবাস যোজনার বাড়ি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের বাড়ি দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা গোপাল দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ১০০ দিনের কাজ করেছি। প্রায় ৩০ হাজার টাকা বকেয়া হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত এক টাকাও পাইনি। ২০২১ সালে কাজ করেছিলাম। ২০২৩ সালে অন্যান্য শ্রমিকরা টাকা পেয়েছেন। কিন্তু আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এক টাকাও ঢোকেনি। বিষয়টি পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের জানিয়েছিলাম। তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। কারণ ওই টাকা নয়-ছয় করা হয়েছে। সুপারভাইজাররা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক বিপ্লব নায়েক বলেন, এই গ্রাম সভায় গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়গুলি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এখানে ১০০ দিনের কাজের টাকা লুট করা হয়েছে। আবাস যোজনার টাকা নিয়েও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। তাই তাঁরা আজ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তবে গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান দেবব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে প্রধান হয়েছি। তখন থেকে ১০০ দিনের কাজ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাও বন্ধ ছিল। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তদারকি করতেন বিডিও। যাঁরা টাকা পেয়ে ঘর করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। তবে অতীতে যদি কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে, তার তদন্তও করা হবে।