সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে হাওড়া গ্রামীণের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শনিবার তৌকিব রাজা নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেন হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসের সাইবার সেলের আধিকারিকরা। ধৃত যুবকের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের জাকিরনগরে। তাকে রবিবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতারণার এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করলেন হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসের সাইবার ক্রাইমের আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তৌকিব রাজা একটি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার আড়ালে এই প্রতারণা চক্র চালাত। ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করিয়ে নেওয়ার পর সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিত সে। পরে আবার অন্য অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে একইভাবে ভয় দেখিয়ে টাকা ট্রান্সফার করাত এবং পরে সেই অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দিত। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারণার ঘটনায় একের পর এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার পর তৌকিব তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিস বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসের এক কর্তা বলেন, ভিন রাজ্যেও তৌকিবের নামে অভিযোগ আছে।
গত ২৫ এপ্রিল এক ব্যক্তি হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসের সাইবার ক্রাইম শাখায় ৪১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। প্রতারকরা তাঁকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে ওই টাকা ট্রান্সফার করতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ। এরপর সাইবার ক্রাইম সেলের আধিকারিকরা তদন্তে নেমে বেঙ্গালুরু থেকে বেণুগোপাল এম নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অসমের শিলচর থেকে পঞ্চল নাথ এবং শুভম রায় নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার রাতে জামশেদপুর থেকে ধরা পড়ল এই চক্রের মাথা তৌকিব রাজা। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিস সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা চন্দননগর কমিশনারেট এবং ভদ্রেশ্বর থানা এলাকায় একইভাবে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে এক কোটি টাকা প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ।