সংবাদদাতা, ডোমকল: সাতসকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রানিনগরে। মরা পদ্মায় কৃষকদের নিয়ে নদী পেরনোর সময় উল্টে গেল নৌকা। স্থানীয়রা নৌকায় থাকা চাষিদের উদ্ধার করলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্তও নিখোঁজ এক যুবক। তাঁর নাম সুজন শেখ ওরফে সুমন (৩০)। তাঁর বাড়ি রানিনগরের কাতলামারি রামনগরপাড়ায়। মঙ্গলবার সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রানিনগরের কার্গিল এলাকায়। জানা গিয়েছে, রানিনগরের বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কাতলামারির বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মার শাখা নদী। স্থানীয় এলাকায় ওই নদী মরা পদ্মা নামে পরিচিত। নদীর ওপারেও বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রচুর ভারতীয় জমি রয়েছে। প্রতিদিন সকালে নৌকায় করে ওই শাখা নদী পেরিয়ে ওইসব জমিতে চাষের কাজে যান কৃষকরা। এদিন সকালেও তেমনই যাচ্ছিলেন তাঁরা। তাড়াহুড়ো থাকায় গাদাগাদি করে নৌকায় উঠেছিলেন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন লোক। তাঁদের সঙ্গে চাষের বিভিন্ন সামগ্রী ছাড়াও ২০টির কাছাকাছি সাইকেলও ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভারের চাপে মাঝনদী পর্যন্ত নৌকাটি যেতেই প্রবল বেগে দুলতে থাকে। প্রপেলারের দিক দিয়ে নৌকায় জল ঢুকতে শুরু করে। তখনই আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন যাত্রীরা। আর তাতেই নদীতেই উল্টে যায় নৌকাটি। বেশিরভাগ চাষি সাঁতার কেটে পাড়ে চলে আসেন। বাকিদের উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। কিন্তু ততক্ষণে জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে সুজন। এরপরে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পায়নি। খবর যায় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রানিনগর থানার পুলিশ জাল ফেলে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করেও সুজনের হদিশ মেলেনি। এরপরই পুলিশের তরফে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কুইক রেসপন্স টিমকে জানানো হয়। তারাও জলে বেশ কয়েক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্তও ওই যুবকের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। সুজনের বাবা গোলাম শেখ বলেন, আমার তিন ছেলে ও আমি ওই নৌকায় করে চাষের কাজে যাচ্ছিলাম। নৌকা ছাড়ার কিছুক্ষণ পরেই তাতে গোলযোগ দেখা দেয়।



