


স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: কল ফরওয়ার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকের ফোন-মেসেজের দখল নেওয়া এখন ধূসর অতীত। হোয়াটসঅ্যাপে এপিকে ফাইল (ম্যালওয়্যার) পাঠিয়ে মোবাইল হ্যাকিংকেও পিছনে ফেলেছে প্রযুক্তির উন্নতি। সাইবার জালিয়াতদের হাতে এসেছে নয়া ‘ব্রহ্মাস্ত্র’— ‘জিরো-ক্লিক অ্যাটাক’! ইদানীং কলকাতা তথা রাজ্যের একাধিক মানুষ এই স্পাইওয়্যারের হামলার শিকার।
হ্যাকারদের টোপে পা দিয়ে আর স্মার্টফোনের স্ক্রিনে টাচ করারও প্রয়োজন নেই। একটিমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ কলই যথেষ্ট। এমনকি কলটি রিসিভ করার পর্যন্ত দরকার নেই। +২১, +৬১, +৬৭ কোড দেওয়া নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল এলেই আপনার মুঠোফোন হ্যাক! মোবাইলের কন্ট্রোল চলে যাচ্ছে জালিয়াতদের হাতে। টার্গেটে রয়েছে আইফোন ব্যবহারকারীরাও। আইমেসেজে ম্যালওয়্যার বোঝাই বার্তা পাঠিয়ে চলছে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা। আম জনতা কোনোভাবে এহেন সাইবার হামলা রুখতে পারবেন না। এতেই দুশ্চিন্তা বেড়েছে ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের কর্তাদেরও।
বিশ্বজুড়ে হাই-প্রোফাইল মানুষদের স্মার্টফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য হাতানোর জন্য কাজে লাগানো হচ্ছিল ‘জিরো-ক্লিক অ্যাটাক’ পদ্ধতি। সেই হ্যাকিংয়ের কাজে বিভিন্ন ক্ষতিকারক সফটওয়্যার ব্যবহার করছিল সাইবার জালিয়াতরা। সেই তালিকায় অন্যতম ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও গ্রুপের ‘পেগাসাস’। পরবর্তীতে উঠে এসেছে আরও একটি স্পাইওয়্যারের নাম, ‘গ্রাফাইট’। সেটির নির্মাতা অন্য এক ইজরায়েলি সংস্থা প্যারাগন সলিউশন। কীভাবে এই নয়া সাইবার হামলার খপ্পরে পড়ছেন সাধারণ মানুষ? অভিযোগকারীদের দাবি উল্লেখ করে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে অপরিচিত নম্বর থেকে একটি কল আসছে। নম্বরের কোড সন্দেহজনক হওয়ায় অভিযোগকারীরা কেউ-ই সেই ফোন ধরেননি। কিন্তু সেই ঘটনার দু’-তিন দিনের মধ্যেই তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। মাঝের ওই ক’দিনে সন্দেহজনক কোনো ফোন, মেসেজ বা অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কোনো এপিকে ফাইলও ডাউনলোড করেননি তাঁরা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযোগকারীদের ফোন ‘জিরো-ক্লিক অ্যাটাক’-এর শিকার। শুধুমাত্র সচেতনতা বা ফোনের বাহ্যিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করলেও যা থেকে নিস্তার পাওয়া কার্যত অসম্ভব। কারণ, ফোনের ইন্টারনেট পরিষেবা অন থাকলে ইনকামিং হোয়াটসঅ্যাপ কল বন্ধ করা যায় না। তাহলে কী উপায়ে এই ‘জিরো-ক্লিক’ হানা আটকানো যাবে? সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ফোনে আসা ‘অফিসিয়াল সিস্টেম আপডেট’ ডাউনলোড ও কার্যকর করতে হবে গ্রাহককে। একইসঙ্গে, প্রতিদিন অন্তত একবার ফোনটিকে ‘রিস্টার্ট’ করাও জরুরি। কারণ, ফোন ‘রিস্টার্ট’ করলে ম্যালওয়্যার নষ্ট হয়ে যায়। শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ নয়, আইমেসেজেও সাইবার জালিয়াতিদের নজর পড়ায় চিন্তিত খোদ অ্যাপল কর্তারা। ইতিমধ্যেই সংস্থার তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, ‘ডিভাইসটি আপডেট করলেই জিরো-ক্লিক অ্যাটাক রোখা সম্ভব। সেজন্য সম্প্রতি ডিভাইসের ভার্সন ২৬-কে ভার্সন ২৬.২-তে আপডেটও করেছে অ্যাপল।’ একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে হোয়াটসঅ্যাপও।