শুভদীপ রায়, কলকাতা: বোধনে যে আনন্দের শুরু, নিরঞ্জনে তার শেষ। যদি উল্টোটা হতো? বিসর্জনের বিষাদ পেরিয়ে বোধনের আনন্দে মেতে ওঠা যেত! উল্টোডাঙা যুববৃন্দের ৫৯তম বর্ষের ভাবনা তেমনই। তিনটি অংশে মণ্ডপ ভাগ করা থাকবে। শুরুতে নিরঞ্জনের প্রাক মুহূর্ত। ধুনুচি নাচ, সিঁদুর খেলা, বিদায়বেলায় দেবীর বরণ সবই থাকবে এই অংশে। এরপর দ্বিতীয় অংশে দেবীকে গঙ্গাবক্ষে বিদায় জানানো। তারপরই বোধন। নতুনের সূচনা। মণ্ডপের একদম ভিতরে দেখা যাবে, দেবীকে নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে। প্রতিটি অংশে থাকবে হাতে আঁকা ছবি এবং বিশেষ সুরের আবহ। যা প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা আমেজ তৈরি করবে। মণ্ডপসজ্জা এবং সমগ্র পরিকল্পনা শিল্পী বিশ্বরঞ্জন রাজের। প্রতিমার দায়িত্বে কুমোরটুলির সনাতন পাল। ক্লাবকর্তা নারায়ণ মণ্ডল জানালেন, এমনটা এর আগে কেউ ভাবেনি। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।
এদিকে, উল্টোডাঙা সংগ্রামী ক্লাবের পুজো এবার ৬৩তম বছরে পদার্পণ করল। থিমের নাম সত্তা। পরিকল্পনা ও মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে শিল্পী গৌরাঙ্গ দাস। সত্তা বলতে অস্তিত্ব বোঝাতে চেয়েছেন শিল্পী। থিমের বিষয়ে জানালেন, মানুষ যেমন প্রকৃতিকে ছাড়া বাঁচতে পারে না, প্রকৃতিও তেমনই মানুষ ছাড়া বাঁচতে পারে না। মণ্ডপে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির মেলবন্ধন দেখানো হবে। মণ্ডপের মূল ভাবনার সঙ্গে জুড়ে আছেন বিখ্যাত ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজ। তাঁর তৈরি ‘সুজাতা’ ভাস্কর্যটি মানুষ আর প্রকৃতির মেলবন্ধনের বার্তা দেয়। মণ্ডপে এই সুজাতাকেই তুলে ধরবেন শিল্পী। দেবীর মূর্তিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। দুর্গার কোলে থাকবে কার্তিক। গণেশ অসুরের পিঠে। লক্ষ্মী-সরস্বতী আলাদা। দেবী দুর্গা আট হাতে একটা গাছকে ধরে আছেন। অভিনব এই প্রতিমাটি গড়ছেন শিল্পী তপন মাঝি। আবহসঙ্গীতের দায়িত্বে চক্রপাণি দেব।
দুই ক্লাবের মধ্যে করবাগান সার্বজনীন। উত্তর কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত পুজোর ৭৮ তম বর্ষের বিশেষ ভাবনা ‘দূর আভাস’। মণ্ডপের ঢোকার গেটটা টেলিফোনের আকারে। ভিতরের সাজসজ্জাতেও একাধিক টেলিফোন দেখা যাবে। সেকেলে টেলিফোন থেকে হালের স্মার্টফোন, যোগাযোগ মাধ্যমের বির্বতন তুলে ধরবে করবাগান। মণ্ডপের অন্দরমহলে থাকবে অজস্র টেলিফোনের তার। মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমার দায়িত্বে বছর তেইশের শাশ্বত কুণ্ডু। আর্ট কলেজের পড়ুয়া শাশ্বত আগেও দুর্গামূর্তি গড়েছেন। তবে এতবড় মণ্ডপের থিমের দায়িত্ব এই প্রথম। দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছেন। থিমের বিষয়ে জানালেন, ‘টেলিফোনগুলো রূপক অর্থে ব্যবহার করেছি। আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোনের তার। সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক আঙ্গিক থেকে মণ্ডপ সাজানোর চেষ্টা করছি।’ মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই রাজকীয় সাজে দেবী মহামায়ার মূর্তি গড়ছেন শাশ্বত। ক্লাবের সদস্যরাও মণ্ডপের যাবতীয় দায়িত্ব তাঁর হাতে নিশ্চিন্তে তুলে দিয়েছেন। মানব সাহার আবহসঙ্গীত আর অয়ন চট্টোপাধ্যায়ের আলোকসজ্জায় মণ্ডপের পরিবেশ অন্য মাত্রা নেবে বলেই আশা করছেন উদ্যোক্তারা।