ভুল চিকিৎসায় আঙুল খুইয়েছিল যুবতী, দেড় বছর পর গ্রেপ্তার ভুয়ো চিকিৎসক
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভুল চিকিৎসায় আঙুল খুইয়েছিলেন এক যুবতী। অভিযোগ দায়ের হওয়ার প্রায় দেড় বছরের মাথায় গ্রেপ্তার হলেন ভুয়ো চিকিৎসক। নিমতা থানা এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত চিকিৎসকের নাম প্রমথরঞ্জন মণ্ডল। ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। 

Advertisement

নিমতা থানার ইটখোলা আশ্রম রোড নারায়ণ পল্লির বাসিন্দা ভুবনেশ্বর সরকার। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মেয়ে সায়নীর বাঁ হাতের কড়ে আঙুল জখম হয়। স্থানীয় চিকিৎসক প্রমথরঞ্জন মণ্ডলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই চিকিৎসক আঙুলে সেলাই করে ছেড়ে দেন। ১৫ দিন পর সেলাই কাটতে দেখা যায়, সমস্যা আরও বেড়েছে। তাঁরা অন্য চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি জানান, আঙুল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তা দ্রুত কেটে বাদ না দিলে ওই পচন শরীরে ছড়িয়ে আরও বড় বিপদ হবে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানোর পর শেষ পর্যন্ত আঙুল কেটে বাদ দিতে হয়। পরে তাঁরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই চিকিৎসক শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারেন না। শুধু তাই নয়, তিনি এই ধরনের চিকিৎসাও করতে পারেন না। এমনকী তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি অপর এক চিকিৎসকের নামে রয়েছে। ভুবনেশ্বর ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নিমতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগ দায়ের হওয়ার ১৫ মাস পর ওই চিকিৎসককে পুলিস গ্রেপ্তার করে।  
ভুবনেশ্বর সরকার বলেন, আমি গরীব মানুষ। পোশাকের দোকানে কাজ করে সংসার চালাই। ভেবেছিলাম, এই জীবনে বিচার আর দেখে যাওয়া হবে না। ভুয়ো ডাক্তার গ্রেপ্তার হয়েছে শুনে ভালো লাগছে। নিমতা থানার পুলিস জানিয়েছে, ওই চিকিৎসককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলা হয়েছিল। উনি দেরি করেছিলেন। পরে স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে ওই চিকিৎসকের বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সেই রিপোর্ট এসেছে। তাতে অভিযোগের সত্যতা মেলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।