নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার (পিএমজিএসওয়াই) কাজে নজিরবিহীন সাফল্য রাজ্যের। কেন্দ্রেরই সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, গত আর্থিক বর্ষের তুলনায় এবছর বাংলায় গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের কাজ বেড়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ। যার ধারেকাছেও নেই উত্তরপ্রদেশ, অসম, গুজরাতের মতো ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলি। অথচ, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলার পিএমজিএসওয়াই বরাদ্দ আটকে রেখেছে মোদি সরকার। এনিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে প্রশাসনিক তথা রাজনৈতিক মহল।
পিএমজিএসওয়াই প্রকল্পের অধীন এই অর্থবর্ষে এখনো পর্যন্ত কোন রাজ্যে কত রাস্তা তৈরি হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। সেখানেই ধরা পড়েছে রাজ্যের এই সাফল্য। গত অর্থবর্ষে এরাজ্যে পিএমজিএসওয়াইয়ের রাস্তা তৈরি হয়েছিল মাত্র ৪০৫ কিলোমিটার। সেখানে চলতি অর্থবর্ষের আড়াই মাস বাকি থাকতেই ৬৯৩ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে এবছর মাত্র ৫২৭ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। সেটা অসমে ৮২ কিলোমিটার এবং গুজরাতে ২৭ কিলোমিটার। এই অগ্রগতি নিয়ে কেন্দ্রের তরফে বাংলার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করা হয়েছে। এবিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ওঁরা বোধহয় ওঁদের নিজেদের রিপোর্টই বিশ্বাস করেন না। সেটা করলে বাংলার টাকা আটকে রেখে অন্য রাজ্যগুলির প্রতি দরাজহস্ত হতেন না। তবে আমরাও বসে নেই। সম্পূর্ণ রাজ্যের কোষাগার থেকেই পথশ্রী প্রকল্প রূপায়ণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, বাংলার ২,০১২ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৪২টি ছোটো-বড়ো সেতু তৈরির কয়েক হাজার কোটি টাকা দীর্ঘদিন আটকে রেখেছে কেন্দ্র। এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্র যদি টাকা আটকেই রাখে তাহলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ হচ্ছে কী করে? দেড় বছর আগে পিএমজিএসওয়াই-৩ প্রকল্পের অধীনে অনুমোদিত রাস্তার কাজ এখনো চলছে বাংলাসহ বহু রাজ্যে। তারপরে আর অনুমোদন না-মেলায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যাবস্থা ক্ষেত্রেও বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। তবে আগের অনুমোদিত কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না-হওয়ার অজুহাত কেন্দ্র যাতে দেখাতে না-পারে সেই বিষয়ে সতর্ক নবান্ন। এজন্য রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্পের পাশাপাশি পিএমজিএসওয়াই প্রকল্পের কাজেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের কাজে অগ্রগতির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ১৩ থেকে এবার উঠে এসেছে পাঁচে!