


নয়াদিল্লি: বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের বার্তা শুধু মুখেই। উল্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারতে’ লাফিয়ে বেড়েছে বেকারত্ব। ২০১৯ সালে তো খোদ সরকারি রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছিল, দেশে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। তারপর পেরিয়েছে আরও দু’টি লোকসভা ভোট। টানা ১১ বছর ক্ষমতায় মোদি। কিন্তু দেশে কর্মসংস্থানের বেহাল দশা কাটেনি। বিরোধীদের চাপের মুখে সম্প্রতি মোদি সরকার ঘোষণা করে, এবার থেকে প্রতি মাসেই কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে। পরিসংখ্যান মন্ত্রকের এই কর্মযজ্ঞের নাম পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (পিএলএফএস)। জুন মাসে প্রকাশিত সেই রিপোর্টে বলছে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশ। সামগ্রিক বেকারত্বের হারও (৫.৬ শতাংশ) মোটেও সুখকর নয়। কিন্তু কেন্দ্রের খাতায় বেকার কারা? কারাই বা রোজগেরে? সরকার বলছে, কেউ সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলেই তাঁকে আর বেকার বলা যাবে না। সংশ্লিষ্ট নাগরিককে রোজগেরে বলে ধরা হবে। কর্মসংস্থানে ব্যর্থতা ঢাকতে মরিয়া মোদি সরকারের এই ‘ভোজবাজি’ গোপন থাকেনি। বিরোধীদের তোপ, বেকারত্বের প্রকৃত অবস্থা ধামাচাপা দিতেও ‘জুমলা’র আশ্রয় নিতে হচ্ছে ৫৬ ইঞ্চি ছাতির প্রধানমন্ত্রীকে। ব্যর্থতা ঢাকতে বেকারত্ব নির্ধারণের অযৌক্তিক তত্ত্বকে ঢাল করছে কেন্দ্র।
সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, দেশে ১০০ দিনের কাজের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে ৪.৫ শতাংশ বেশি পরিবার কাজ চেয়েছেন এই প্রকল্পে। আবার সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমির (সিএমআইই) রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র গত মার্চ মাসে ভারতে ৪২ লক্ষের চাকরি গিয়েছে। হতাশার জেরে কাজের সন্ধান করাই ছেড়ে দিচ্ছেন বেকাররা। কোন ‘জাদুবলে’ বেকারত্বের এই করুণ ছবিটাকে আড়াল করছে কেন্দ্র? একাজে মোদি সরকার ঢাল করেছে ‘কারেন্ট উইকলি স্টেটাস’ (সিডব্লুএস) প্রক্রিয়াকে। আর এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা কাজের সুযোগ পেলেই তাঁকে কর্মরত বলে ধরতে হবে। তাঁকে আর বেকার বলা চলবে না। আকাশ কুসুম এই সিডব্লুএস পদ্ধতিই এখন অনুসরণ করছে কেন্দ্র।
যদিও বেকারত্ব নির্ধারণের আরও অনেক বাস্তবসম্মত তত্ত্ব রয়েছে। যেমন ‘ইউজুয়াল স্টেটাস’— কোনও ব্যক্তি বিগত ৩৬৫ দিনে অধিকাংশ সময় কাজের সুযোগ পেয়েছেন কি না, সেটাই হল রোজগেরে স্বীকৃতি প্রদানের মাপকাঠি। কোনও ব্যক্তি যদি একইসঙ্গে একাধিক কাজকর্মে যুক্ত থাকেন, তাহলে যে পেশায় সবচেয়ে বেশি সময় দেন সেটি তাঁর ‘প্রিন্সিপল ওয়ার্ক’। বাকি কাজগুলি ‘সাবসিডিয়ারি ওয়ার্ক’। ‘ইউজুয়াল স্টেটাস’-এ দু’ধরনের কাজকেই মান্যতা দেওয়া হয়। কিন্তু এধরনের বাস্তবমুখী তত্ত্ব ছেড়ে মোদি সরকার সিডব্লুএস পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে কেন? নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে? এই প্রশ্ন তুলেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেসের তোপ, ‘দেশে বেকারত্ব কম করে দেখাতে মোদি সরকারের নয়া চাল। কিন্তু... এই চাতুরি তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারছে না। খোদ কেন্দ্রের তথ্যই বলছে, দেশে ৪৮ শতাংশ মানুষের হাতে কাজ নেই। এই পরিসংখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে, ভারতে বেকারত্ব কতটা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আর নরেন্দ্র মোদি দামি মাশরুম খেয়ে আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন।’