Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

মহিলা সংরক্ষণ বিল: ওবিসি অস্ত্রে মোদিকে ঘায়েল করতে চাইছে বিরোধীরা

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ আইনের সংশোধনে সমর্থন চেয়ে সব রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মহিলা সংরক্ষণ বিল: ওবিসি অস্ত্রে মোদিকে ঘায়েল করতে চাইছে বিরোধীরা
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ আইনের সংশোধনে সমর্থন চেয়ে সব রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৯ সালের লোকসভা-বিধানসভা নির্বাচন থেকেই সংসদীয় রাজনীতিতে ৩৩ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধিত্ব কার্যকর করতেই আগামী ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে মোদি সরকার। সংশোধনী বিলটি পাশ করাতে লোকসভায় ৩৬২ ভোটের প্রয়োজন। রাজ্য‌সভায় ১৬৪। এনডিএ’র কাছে যা নেই। তাই এখন মিষ্টিকথায় আবেগ সামনে রেখে মোদি সমর্থন আদায়ের কৌশল নিয়েছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।  

Advertisement

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জেপি নাড্ডা, অর্জুন রাম মেঘওয়ালদের মতো দলীয় সাংসদদের অগ্রাহ্য করে তাঁদেরই পাশে দাঁড়ানো রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। যা একপ্রকার নজিরবিহীন। আসলে মাথায় মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধন। সেই কারণেই নরেন্দ্র মোদি বিরোধী দলনেতার মন গলানোর চেষ্টা করেছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। একইসঙ্গে এবার সব দলকে দু’ পাতার চিঠি লিখে আইন সংশোধনে দলের ঊর্ধ্বে গিয়ে সমর্থন প্রার্থনা করেছেন।  আজ সোমবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এক অনুষ্ঠানেও এ ব্যাপারে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। 
যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠিতে নরম হচ্ছে না তৃণমূল। রবিবার দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন চাঁছাছোলা ভাষায় বলেছেন, ‘মোদি এবং অমিত, জেনে রাখুন, সংসদ কোনো গুজরাত জিমখানা ক্লাব নয়। যা ইচ্ছা তাই করবেন। সংসদ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে উপহাস করা বন্ধ করুন। পশ্চিমবঙ্গ আর তামিলনাড়ুর ভোটের আগে নাটক এবং চমক দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনাদের উদ্দেশ্যই বিভ্রান্তকর।’ ডেরেক আরও বলেন, ‘মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব কাকে বলে, বিজেপি বা মোদি-শাহর কাছে শিখব না। আমাদের দলনেত্রী মহিলা। সংসদীয় প্রতিনিধিত্বও ৩৩ শতাংশের বেশি। বিজেপি আগে আয়নায় মুখ দেখুক, তারপর সমর্থন চাইবে। মুখে মহিলা সংরক্ষণের কথা বললেও আসলে মোদি-শাহর টার্গেট এলাকা পুনর্বিন্যাস।’   
মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনীতে কমবেশি কোনো দলেরই আপত্তি নেই ঠিকই। তবে বিরোধীদের আপত্তি নতুন সেন্সাসের জন্য অপেক্ষা না করে এখনই ডিলিমিটেশন বা এলাকা পুনর্বিন্যাস করে আসন বাড়ানোয়। বিরোধীদের দাবি, ২০১১ সালের সেন্সাস ডেটাকে ভিত্তি করা চলবে না। তফসিলি জাতি/উপজাতির যেমন সংরক্ষণ বা কোটা রয়েছে, একইভাবে এবার নির্বাচনে ওবিসি (আদার ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস) সংরক্ষণ চেয়েও মোদি সরকারকে কোণঠাসা করা হবে বলেই ঠিক হয়েছে। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসদে তারা দাবি করবে, সরকারি চাকরিতে যদি এসসি/এসটি’র পাশাপাশি ওবিসি কোটা থাকতে পারে, তাহলে সংসদীয় রাজনীতিতে কেন নয়? অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য আসন নির্দিষ্ট করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাতের মোধ-ঘাঞ্চি জাতির মানুষ। তিনি ওবিসি। তাই এবার মোদির অস্ত্রেই বিজেপিকে পাকে ফেলার পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস। এ ব্যাপারে বিজেপি শরিক জেডিইউ এবং টিডিপি’কেও তারা সংসদে চাপে ফেলতে চাইছে। চূড়ান্ত স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে ১৫ এপ্রিল বৈঠকে বসছে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ