Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গাছে উঠে ‘এসআইআর’-‘কাগজ চাইবে না’ আওড়াচ্ছেন মহিলা, পাগলের প্রলাপ বলে ওড়াতে পারলেন না বাসিন্দারা

শাসক চিরকালই গণদাবি জোরালো হলে সেটিকে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিতে চায়। তবে পাগল সবসময় যে প্রলাপ বকে তা তো নয়। মান্টোর টোবা টেক সিং এক পাগলের আচরণকে প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে অক্ষয় করে রেখে গিয়েছে।

গাছে উঠে ‘এসআইআর’-‘কাগজ চাইবে না’ আওড়াচ্ছেন মহিলা, পাগলের প্রলাপ বলে ওড়াতে পারলেন না বাসিন্দারা
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শাসক চিরকালই গণদাবি জোরালো হলে সেটিকে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিতে চায়। তবে পাগল সবসময় যে প্রলাপ বকে তা তো নয়। মান্টোর টোবা টেক সিং এক পাগলের আচরণকে প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে অক্ষয় করে রেখে গিয়েছে। হিন্দমোটরেও মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলা গাছের মগডালে উঠে প্রলাপের আড়ালে এমন কিছু বিষয় নিয়ে বললেন যে বিষয়গুলি নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল দেশজুড়ে। যা নিয়ে এখনও ব্যতিব্যস্ত মানুষ। এখনও হচ্ছে প্রতিবাদ। বিষয়গুলির একটি ‘এসআরপি’। অন্যটি, ‘কাগজ আমি দেখাবো না।’ তিনি প্রলাপের আড়ালে গোটা দেশের যন্ত্রণার কথা লাগাতার আওড়ে গেলেন বৃহস্পতিবার।

Advertisement

উত্তরপাড়া পুরসভার হিন্দমোটর কলোনি। কলোনির একটি মাঝারি উচ্চতার বটগাছে চড়ে বসেন মহিলা। সম্ভবত বুধবার রাতে গাছে উঠেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, মহিলার হাতে ছিল একটি লাঠি। অসংলগ্ন সব কথা বলছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘কাগজ চাইবে না’ আর ‘এসআইআর’। এগুলি বারবার বলে চলছিলেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানা যায়নি কোনও যন্ত্রণা বা আক্ষেপ বা না পাওয়া থেকে তিনি এই কথাগুলি বলে চলছিলেন। তিনি গাছে চড়ে ‘এটা আমার বাড়ি,’ ‘এখানে কেউ আসবি না’, কখনও ‘কাজ চাইবে না,’ ইত্যাদিও বলেছেন।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ও দমকল ঘটনাস্থলে আসে। মহিলাকে অনেক কষ্টে নামানো হয় গাছ থেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘কেউ হয়ত ওঁকে বলেছিলেন, কাগজ দেখাতে না পারলে এসআইআর করে তোকেও বাইরে বের করে দেব। তাই ‘এসআইআর’ ও ‘কাগজ চাইবে না’ বলেছেন।’ গলার স্বরে কৌতুক মিশিয়ে এলাকার এক রসিক বাসিন্দা বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাও যেভাবে ‘এসআইআর’ বলে চিৎকার করেছেন তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এসআইআর কতটা ‘জনপ্রিয়’ হয়ে উঠেছে বঙ্গে!’ 
পুলিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে উনি মানসিক ভারসাম্যহীন। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কামাখ্যানারায়ণ সিং বলেন, ‘আগে ওঁকে কখনও এলাকায় দেখিনি। কেউ হয়ত এখানে ছেড়ে দিয়ে যেতে পারেন। বা উনিও চলে আসতে পারেন। সন্ধ্যাবেলায় আমি দেখি। তখন উনি হনুমান মন্দিরের সামনে বসে মাটি মাখছিলেন।’ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্য, ‘রাজ্যজুড়ে এসআইআর পর্বে একাধিক মৃত্যু ও অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ‘সুস্থ’ মানুষও আত্মহত্যা করেছেন এসআইআর-আতঙ্কে। এই মহিলার আতঙ্কের কারণও জানার চেষ্টা করা উচিত।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ