নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জম্মু-কাশ্মীরকে ফের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে ‘জে অ্যান্ড কে রিঅর্গানাইজেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পেশ করছে মোদি সরকার। আজ, বুধবার তা পেশ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও দ্য কনস্টিটিউশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিলও পেশ হবে। এই বিল অনুযায়ী, গুরুতর অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রী টানা ৩০ দিন জেলে বা হেফাজতে থাকলে, তাঁকে ওই পদ থেকে অপসারিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরিয়ে দেবেন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণের প্রয়োজন নেই। তবে জেল থেকে মুক্তি পেলে ফের পুরনো পদে ফিরতে পারবেন তিনি। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, নয়া এই বিল নিয়ে ফের ঝড় উঠতে চলেছে সংসদে। কারণ, আইনকে ঢাল করে যে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সরানোর ক্ষমতা কেন্দ্র নিজের হাতেই নিতে চাইছে। তাতে জোর ধাক্কা খাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো। আর বিরোধীদের শোরগোল ঠেকানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদটিকেও বিলে যুক্ত করা হয়েছে। বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কমপক্ষে পাঁচবছরের কারাদণ্ড হতে পারে এমন অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে বন্দিদশার ৩১তম দিনে পদ খোয়াতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিজেপি সরকারের আমলে বারবার ইডি, সিবিআইয়ের মতো সংস্থাকে অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বেছে বেছে অবিজেপি রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে (যদিও তিনি গ্রেপ্তারির আগে ইস্তফা দিয়েছিলেন) গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হেফাজতে থেকেও দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রেখেছিলেন কেজরি। নয়া বিল আইনে পরিণত হলে সেই পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এদিন বিল পেশ হলেও ভোটাভুটিতে যাবে না মোদি সরকার। যৌথ সংসদীয় কমিটিতে সেটি পাঠানো হবে। জে অ্যান্ড কে রিঅর্গানাইজেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, দ্য গর্ভমেন্ট অব ইউনিয়ন টেরিটরিজ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। আজ, অনলাইন গেমিং সংক্রান্ত একটি বিলও পেশ করবে সরকার। এদিকে, বিহারের এসআইআর ইস্যুতে মঙ্গলবারও অচল হল সংসদ। তারই মধ্যে এদিন বিকাল ৪টেয় লোকসভা বসতেই ঠিক পাঁচ মিনিটে পাশ হল ‘দ্য ইনস্টিটিউটস অব ম্যানেজমেন্ট (সংশোধন) বিল ২০২৫।’ অন্যদিকে, বিহারে ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া ইস্যুতে রাহুল গান্ধী সহ বিরোধীরা সরব হতেই কমিশন গা ঝাড়া দিয়ে উঠল। ওই নির্দিষ্ট ভোটারদের ভিডিও ছবি তুলে বলানো হয়েছে যে, তাঁদের নাম বাদ পড়েনি। কংগ্রেস-আরজেডির নেতারা তাঁদের সাজিয়ে গুছিয়ে মিথ্যে বলিয়েছে।



