নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘা: দীঘার মন্দিরের ভিতর থেকে রাস্তায় রথ নিয়ে আসতেই লেগেছে প্রায় দু’ঘণ্টা। এই পথের তিনটি বাঁকে রথগুলি ঘোরাতেই অনেকটা সময় লেগে গিয়েছে। তারপর অবশ্য মাসির বাড়ি পর্যন্ত রথ গিয়েছে একদম সোজা রাস্তা ধরে। কিন্তু এই পথেও রথ নির্বিঘ্নে নিয়ে যেতে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয় স্বেচ্ছাসেবকদের। হঠাৎ হঠাৎ রথে ঝাঁকুনিও লক্ষ্য করা গিয়েছে। পরের বছর যাতে এই ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য এখন থেকেই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। সূত্রের খবর, কলকাতার ইসকনের রথের মতো পরের বছর দীঘার রথেও স্টিয়ারিং লাগানো হতে পারে। তাহলে বাঁক নিতে কোনও সমস্যা যেমন হবে না, তেমনই রথ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। তবে সম্পূর্ণ নতুন রথ তৈরি করাও হতে পারে। প্রশাসনের বক্তব্য, এবছর প্রথম দীঘায় রথযাত্রা পালিত হল। আগামী বছরে সামান্য ভুলত্রুটিগুলি শুধরে নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, দীঘার মন্দিরের দায়িত্বে থাকা ইসকনের তকফে রাধারমণ দাস জানিয়েছিলেন, মন্দিরের মতো দীঘার তিনটি রথও পুরীর রথের আদলে তৈরি করা হয়েছে। উচ্চতায় সামান্য কম হলেও, চাকার সংখ্যা সহ অনেক কিছুই এক। ফলে এতে ষ্টিয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করা যায়নি। আর সেই কারণেই রাস্তার বাঁকে এই রথ ঘোরানো এতটা সহজ নয়। শুক্রবার রাস্তার উপরে রথ দাঁড় করিয়ে ‘পাহান্ডি বিজয়’ করে সমুদ্রপাড়ে মাসির বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে। রথে স্টিয়ারিং থাকলে একেবারে মাসির বাড়ির দোরগোড়ায় রথ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে এই রথেই স্টিয়ারিং লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে নাকি একেবারে নতুন রথ তৈরি করতে হবে, তা নিয়ে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
তবে ৫ জুলাই উল্টোরথ হবে এই তিনটি রথেই। শুক্রবার রথের চাকায় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। সাময়িকভাবে তা মেরামত করেই সম্পূর্ণ হয়েছে রথযাত্রা। উল্টোরোথের দিন যাতে এই বিপত্তি না ঘটে, তার জন্য ইতিমধ্যে নানারকম সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। উল্টোরথের দিন কী কী অনুষ্ঠান হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে শীঘ্রই প্রশাসন বৈঠক করবে। এদিকে, মাসির বাড়িতে মহাপ্রভুর দর্শন করতে সকাল থেকে ভিড় জমাচ্ছেন পুণ্যার্থীরা। সেখানে পিঠেপুলি পরিবেশন সহ নানা উপাচারে চলছে পূজা-অর্চনা।