নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: চলতি মাসের শেষে দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি’র সেকেন্ড ইন কমান্ড অমিত শাহ। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দলের রণকৌশল নিয়ে প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যে গিয়ে বাংলার ‘হেভিওয়েট’ বিধানসভা আসনগুলির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা সারতে পারেন শাহ। যদিও বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেড চাইছে, দলের পরবর্তী রাজ্য সভাপতি নিয়ে চলা অচলাবস্থার স্থায়ী সমাধান হোক ভোটের আগে। দলীয় সূত্রে খবর, বঙ্গ সফরের এ পর্বে যেমন কলকাতায় ই এম বাইপাস লাগোয়া এক অডিটোরিয়ামে সাংগঠনিক বৈঠক সারবেন বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড, তেমনই আরামবাগে প্রকাশ্য সমাবেশেও অংশ নিতে পারেন তিনি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরকে ঘিরে বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে।
দলীয় মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। সদস্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে বুথ স্তরের কমিটি গঠন পর্যন্ত ‘জল মেশানো’ যে রিপোর্ট পরিবেশিত হয়েছিল, তা নিয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বঙ্গ ইউনিটকে সতর্ক করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। এরকম একটা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনগুলিতে হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে নির্বাচনী প্রস্ততি শুরু না করলে, ভোটের পর মুখ লুকনোই দায় হতে পারে বলে মনে করছে দলেরই একাংশ। তবে সাংগঠনিক স্তরে স্থায়ী সভাপতি না হলে, এই মুহূর্তে গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার বঙ্গ বিজেপিকে যে এক সুরে বাঁধা যাবে না, তাও মানছেন সবাই। তাই অমিত শাহকে সামনে রেখে স্থায়ী সভাপতি সংক্রান্ত সদর্থক বার্তা পেতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি।
প্রায় আট মাস আগে সুকান্ত মজুমদারের প্রথম দফার সভাপতিত্বের মেয়াদ ফুরিয়েছে। কিন্তু এতদিনেও পরবর্তী সভাপতির নাম চূড়ান্ত করা যায়নি। সভাপতি হওয়ার জন্য বঙ্গ বিজেপির ছোট, বড় মাঝারি নেতারা মাঝে দিল্লিতে ডেলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করলেও, লাভ কিছু হয়নি। নির্বাচনের আগে আরএসএস স্বীকৃত কাউকে সভাপতি পদে রাখতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তবে সূত্রের খবর, এত কম সময়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার পক্ষেই কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে। তাই সুকান্ত মজুমদারকে সভাপতি রেখেই বিধানসভা নির্বাচনে যেতে পারে বঙ্গ বিজেপি। সূত্রের খবর, সেক্ষেত্রে একজন কার্যকরী সভাপতির নাম ঘোষণা করা হতে পারে। আর তা হলে, বাংলার বিরোধী দলের ইতিহাসে হবে এক নয়া অধ্যায়।-ফাইল চিত্র