সংবাদদাতা, বনগাঁ: বুধবার সকাল ১০ টা। বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার ফুলসরা পাঁচপোতার ১২৭ নম্বর বুথ। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে তাঁর স্ত্রী সুপর্ণা চৌধুরী। তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও আমি ভোট দিয়েছিলাম। এবার আমার নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। জন্ম শংসাপত্র, চতুর্থ শ্রেণির শংসাপত্র জমা দিয়েছিলাম। তবুও তালিকায় নাম ওঠেনি। আমার চোখের সামনে সকলে ভোট দিচ্ছে। আমার খারাপ লাগছে। পাশ থেকে তাঁর স্বামী বললেন, যাঁদের জন্য আমার স্ত্রীর নাম তালিকা থেকে বাদ গেল এবার ভোট দিয়ে তাঁদের উপযুক্ত জবাব দিতে চাই।
বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত বনগাঁ মহকুমায় চারটি বিধানসভা ঘুরে একাধিক মানুষের মধ্যে এমন ক্ষোভ দেখা গেল। বাগদার বাসিন্দা বিষ্ণু বিশ্বাস ভোট দিতে যাওয়ার পথে জানালেন, ৫০ বছর আগে বাবা-মা বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসেছিলেন। ২০০০ সালের আগে থেকে তাঁরা ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু সিপিএম নেতারা কোনোভাবে বাবা-মায়ের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তী সময় অবশ্য তালিকায় নাম উঠেছিল। তবে এবার বিজেপির কারণে নাম বাদ চলে গিয়েছে। আমি ও আমার স্ত্রী বাবা মায়ের এই অসম্মানের প্রতিবাদে ভোট দিতে যাচ্ছি। বাগদার বাসিন্দা লক্ষ্মণ ভদ্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় সিএএতে আবেদন করেছিলেন। নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। সেই শংসাপত্র দিয়ে আবেদন করেও ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি। এদিন ভোট দিতে না পারায় মন খারাপ তাঁর। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির নাগরিকত্বের ভাঁওতা ও এসআইআরের মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছেন।