নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’। এই প্রত্যাঘাতে তিনি খুশি। কিন্তু পুরোপুরি তৃপ্ত নন ইন্দোরের জেনিফার নাথানিয়েল। গত ২২ এপ্রিল বৈসরণ উপত্যকায় তাঁর চোখের সামনে স্বামী সুশীলকে গুলি করে খুন করেছিল চার জঙ্গি। পহেলগাঁওয়ে হামলায় জড়িত ওই চার জঙ্গিরও শাস্তি চান তিনি। জেনিফার বলেন, ‘ওই চার জঙ্গি যা করেছে, কোনও পশুও এমন করে না। ওরা একেবারে ভয়ডরহীন আচরণ করছিল। ওই চারজনকেও যেন কড়া শাস্তি দেওয়া হয়। ওদেরও
মৃত্যুই প্রাপ্য।’
ইন্দোর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে আলিরাজপুরে জীবনবিমা সংস্থায় চাকরি করতেন সুশীল। ছুটিতে স্ত্রী, ছেলে, মেয়েকে নিয়ে কাশ্মীর ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় ঘোরার সময় জঙ্গি হানায় প্রাণ হারান তিনি। বুধবার দুঃস্বপ্নের সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি জেনিফার। কান্নাভেজা গলায় বলেন, ‘আমরা ওখান থেকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখনই আমার স্বামী শৌচাগারে যান। সেখান থেকে বেরতেই প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম, বোধহয় রোপওয়ে ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখলাম, একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে গেলেন। সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। প্রত্যেকে লুকনোর জায়গা খুঁজছিল। তখনই জঙ্গিরা আমার স্বামীকে ঘিরে কলমা পড়তে বলে। কিন্তু কলমা পড়তে না পারায় তাঁকে গুলি করে জঙ্গিরা।’ পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনেই মৃত্যু হয় সুনীলের। সেদিন যারা ওই কাজ করেছিল, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বার করে চরম শাস্তির দাবি তুলেছেন জেনিফার।