


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলি এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। মানুষও প্রস্তুত হচ্ছে গত পাঁচ বছরের চাওয়া-পাওয়ার হিসেব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য। বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে ও বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেস শুরু করেছে ভাষা আন্দোলন। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে গিয়ে ভাষা আন্দোলনের পদযাত্রা করেছেন তিনি। এই আবহে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে জঙ্গলমহলজুড়ে। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় কোন দল কত আসন পাবে, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে চায়ের দোকান থেকে রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে। আর সব জায়গাতেই উঠে আসছে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ‘১০০ দিনের কাজ’ শুরু না হওয়ার বিষয়টি। বছরের পর বছর ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে ফুঁসছেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ। তাঁদের সাফ বক্তব্য, ‘এবার বিজেপি নেতারা ভোট চাইতে এলে একটাই প্রশ্ন করব, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরও কেন আমরা কাজ পেলাম না? কেন কেন্দ্র গরিব মানুষের পেটে লাথি মারছে?’
১ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফের ‘১০০ দিনের কাজ’ চালু করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের তরফে কোনও হেলদোলই দেখা যায়নি। এই অবস্থায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও রাজ্যের শাসক দলের অন্যতম ইস্যু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা। জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষের কথাতে শোনা যাচ্ছে তারই প্রতিধ্বনি। যেমন ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা সুজাতা হাঁসদা বলছিলেন, ‘রাজ্য সরকার কর্মশ্রী প্রকল্প চালু করেছে ঠিকই। কিন্তু মোদি সরকার আমাদের ন্যায্য প্রাপ্য দেবে না কেন? আমরা তো কোনও দোষ করিনি! এবার ওদের (বিজেপির) লোকেরা এলে জিজ্ঞেস করব, কেন আগস্ট থেকে কাজ চালু হল না?’ এই জেলারই আরেক বাসিন্দা হরিনাথ মুর্মুর প্রশ্ন, ‘আমরাও তো এদেশেরই মানুষ। অন্যান্য রাজ্যের লোকেরা টাকা পেলে আমরা পাব না কেন?’
প্রসঙ্গত, সাড়ে তিন বছর আগে বন্ধ হয়েছে কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের টাকা। ২০২১ সালের নির্বাচনে হারের ‘বদলা’ নিতেই মোদি সরকার এই খাতে টাকা আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪০টি বিধানসভার মধ্যে ৩১টিতে এগিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১-এর ভোটে তারা ২৬টি আসন পায়। ঝাড়গ্রাম জেলায় চারটি আসনের সবক’টিতেই জিতেছিল তৃণমূল। ‘এবারও চারটেই আমাদের হবে’—আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। একইভাবে প্রত্যয়ী জঙ্গমহলের বাকি তিন জেলার তৃণমূল নেতৃত্বও। পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি আসনেই তাঁদের দলের জয় নিশ্চিত বলে দাবি করলেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অজিত মাইতি। বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলাতেও আসন বৃদ্ধির ‘টার্গেট’ নিয়েছে তৃণমূল।