Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬

১৫ কোটির আমেদাবাদ অধিবেশন কেন? প্রশ্ন হাত শিবিরের অন্দরেই

এলাহি আয়োজনের নির্যাস কী? এককথায় ‘জিরো।’ তবুও কেন অসময়ে আমেদাবাদে বসল এআইসিসির অধিবেশন? দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

১৫ কোটির আমেদাবাদ অধিবেশন কেন? প্রশ্ন হাত শিবিরের অন্দরেই
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এলাহি আয়োজনের নির্যাস কী? এককথায় ‘জিরো।’ তবুও কেন অসময়ে আমেদাবাদে বসল এআইসিসির অধিবেশন? দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। আদতে দিল্লি ফিরে দলকে বলতে হচ্ছে, জেলায় জেলায় ছোট ছোট সম্মেলন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হতে হবে। করতে হবে জেলা সভাপতিদের ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রাম। জেলাওয়াড়ি কর্মী সম্মেলন। ডাকতে হবে দলের সব শাখাকে। নিতে হবে দশদিনের কর্মসূচি। আঞ্চলিক ভাষায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বানাতে হবে রিল, ভিডিও। ধর্মীয় স্থানে, বাজারে, মেলায় বিতরণ করতে হবে প্যামফ্লেট। এভাবেই ফের দলকে চাঙ্গা করতে জারি হল নির্দেশিকা। পাঠানো হল জেলা, প্রদেশ নেতৃত্বকে।  

Advertisement

কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিতে আমেদাবাদে এক বিশাল আয়োজনের যুক্তি রয়েছে কি? উঠছে প্রশ্ন। গুজরাতে ভোট এখনও দু বছর বাকি। ২০২৭ সাল। যেখানে গত ৩০ বছর ক্ষমতার বাইরে কংগ্রেস। তাই সেখানে ফের ক্ষমতায় ফেরার তাগিদ থাকাটা ভালো। কিন্তু তার জন্য ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার আমেদাবাদে এপ্রিলের ৮-৯ তারিখ এআইসিসি অধিবেশনের কী প্রয়োজন ছিল? খরচও তো কম হয়নি। ফুল মালা, চেয়ার টেবিল ভাড়া, প্যান্ডেল, যাতায়াত, থাকা খাওয়া, প্যাটেলের জীবন কাহিনির বই কেনা ইত্যাদি আয়োজনে আমেদাবাদ অধিবেশনের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।  
দিল্লি থেকে ‘চার্টার্ড’ বিমানে সোনিয়া-রাহুল গান্ধী সহ সদলবলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের আমেদাবাদ উড়ে যাওয়া। তারকাখচিত হোটেলে থাকা। মূল অধিবেশন সবরমতী ইভেন্ট সেন্টারে। অস্থায়ীভাবে বানানো হয়েছিল কুম্ভাকার (ডোম) বিশাল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু। সেখানেই ৯ এপ্রিল ছিল মূল অধিবেশন। আগেরদিন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল জাতীয় সংগ্রহালয়ের মাঠে বর্ধিত কংগ্রেস ওয়াকিং কমিটির বৈঠক। সম্রাট শাহ জাহানের তৈরি ‘মোতিশাহি মহল’ সংলগ্ন মাঠে বানানো হয়েছিল অস্থায়ী তাঁবু। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মোতিশাহি মহলই এখন সর্দার প্যাটেল মেমোরিয়াল। 
সারা দেশ থেকে ডাকা হয়েছিল ১ হাজার ৮৯৪ এআইসিসি সদস্যকে। প্রত্যেকে দিতে হয়েছে ৪ হাজার ৬০০ টাকা। তবেই মিলেছে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কার্ড। এছাড়া ঐচ্ছিক আরও দু’ হাজার টাকা। সোনিয়া-রাহুল থেকে অধীররঞ্জন চৌধুরী, শুভঙ্কর সরকার—সকলের জন্যই সমান অনুদান। সেখান থেকে উঠেছিল এক কোটি টাকা। বাকি জুগিয়েছে গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেস এবং এআইসিসি। অতিথিদের আমেদাবাদ যাতায়াত খরচ যে যার নিজের। হোটেলে দু হাজার রুম বুক করেছিল এআইসিসি। যাতায়াতের জন্য ৫০ বাস। নিরামিষ হলেও অধিবেশনে ছিল এলাহি খাওয়া দাওয়া। পনীর থেকে পাস্তা। ধোকলা থেকে ডাল মাখানি। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েছিল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর টিম। সোনিয়া-কন্যা নিজে অবশ্য এখনও বিদেশে। কিন্তু তাঁর টিম সফল করল সম্মেলন। যদিও যে লক্ষ্যে সম্মেলন (কীভাবে সংগঠন হবে চাঙ্গা), তা নিয়ে আলোচনা হল কই? ফলে কেন যে আমেদাবাদের অধিবেশন? বুঝেই উঠতে পারছে এআইসিসির একাংশ। 

সম্পর্কিত সংবাদ