সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, ভাটপাড়া: চটকলের উপর নির্ভরশীল বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একটা বড় অংশের মানুষ। কেন্দ্রের ভ্রান্ত নীতির কারণে ধুঁকতে শুরু করেছে শতাব্দী প্রাচীন এই শিল্প। প্লাস্টিক লবির চাপে চটজাত সামগ্রীর বরাদ্দ ক্রমেই কমিয়ে চলেছে কেন্দ্রের পদ্মপার্টির সরকার। শেষ প্রহরের নির্বাচনি প্রচারে সোমবার চটকল মহল্লা ভাটপাড়ায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চটশিল্পের পুনরুজ্জীবনে বড়সড় ঘোষণা শোনা যাবে মোদির মুখে—প্রত্যাশার প্রতীক্ষা নিয়ে ছিল গোটা চটকল মহল্লা। চটের বরাত বাড়বে কি না, তা নিয়ে কোনো স্পষ্টবার্তা শোনা গেল না বিজেপির পোস্টার বয়ের মুখে। বরং ভোট প্রচারের শেষ দিনে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি বিলি করে গেলেন তিনি। বললেন, ‘বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে একডজন জুট মিল এবং কারখানা বন্ধ। বহু লোক কর্মহীন হয়ে রয়েছেন। আগে এই শিল্পাঞ্চলে বহু লোক চাকরি করতে আসতেন, এখন এখান থেকে চলে যাচ্ছেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সব কারখানা খুলে যাবে, সমস্যার সমাধান হবে।’ কিন্তু বন্ধ চটকল খোলার জন্য কাঁচামালের সরবরাহ এবং চটজাত সামগ্রীর বরাতটাই যে সবচেয়ে জরুরি, সে প্রসঙ্গের ধারেকাছেও গেলেন না প্রধানমন্ত্রী।
ভাটপাড়ার জিলাবি ময়দানের সভামঞ্চ থেকে মোদির আহ্বান—বাংলায় পদ্মফুলে ছাপ দিন। বিজেপি সরকার আনুন। পিএম আর রাজ্যের সিএম, একসাথে উন্নয়ন হবে দিনে-রাতে। গত সাড়ে তিনবছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে ১০০ দিনের কাজে বাংলার প্রাপ্য। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও বকেয়া টাকা মেটাচ্ছে না কেন্দ্র। কিন্তু নির্বাচনি সভা থেকে যে পাঁচটি ‘গ্যারান্টি’ মোদি বিলি করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ এলাকার কাজের প্রসঙ্গটিও। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে মোদির আশ্বাস—গ্রামে এবার ১২৫ দিনের কাজ পাবে মানুষ। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চালু করেছে সপ্তম বেতন কমিশন। মোদির গ্যারান্টি, ক্ষমতায় এসেই লাগু করা হবে, ‘চালু’ হয়ে যাওয়া সেই বেতন কমিশন।
প্রচারে এসে এ রাজ্যের মানুষের ‘মুড’ বুঝেছেন বলে বারবার দাবি করছেন মোদি। একধাপ এগিয়ে এদিন বলেছেন, ‘প্রচার শেষ করলাম। তবে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ফের আসব। রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রচার কর্মসূচিতে গিয়েছি। মানুষের যা সাড়া পেয়েছি, সেটাই সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছে। আপনাদের দেখে বিশ্বাস রাখছি, অঙ্গ এবং কলিঙ্গের পরে বঙ্গেও পদ্ম ফুটবে।’
স্বামী বিবেকানন্দের নাম আর নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আহ্বানকে ‘জুড়ে’ ভোট প্রচারে ‘ঘেঁটে ঘ’ করেছিলেন বুলডোজার রাজনীতির প্রণেতা যোগী আদিত্যনাথ। বাঙালি সাজার চেষ্টায় ‘হোমওয়ার্ক’ যে ভালো হয়নি, তা উপলব্ধিতে নিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন মোদি। বললেন, ‘নেতাজি বলেছিলেন, তোমরা রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। আমি বলছি, তোমরা পদ্মফুলে ভোট দাও, তোমরা প্রকৃত স্বাধীনতা পাবে। বাংলা তার স্বমহিমায় ফিরে আসবে।’ এদিনের সভায় বহিরাগতদের ভিড় ছিল এবং পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়িতে চেপে বহিরাগতরা এসেছেন বলে অভিযোগ ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তার।