নয়াদিল্লি: বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হোক। এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা পড়ল। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতির বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিস যাতে এফআইআর দায়ের করে, তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিক শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমতি ছাড়া কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যাবে না বলে যে নির্দেশিকা রয়েছে, সেটিকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে ওই আবেদনে। ১৯৯১ সালে শীর্ষ আদালত এই নির্দেশিকা জারি করেছিল। আইনজীবী ম্যাথিউজ জে নেদুমপারা ও আরও তিনজন ওই আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারপতিদের যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের সাম্যের নীতির পরিপন্থী ও বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
এরই মধ্যে বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মাকে সব বিচার প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তিনি কাজে যোগ দিতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি ভার্মার এজলাসে যে সব মামলার শুনানি চলছিল, সেগুলি এখন থেকে অন্য বিচারপতি শুনবেন। বিচারপতি ভার্মাকে বিচার প্রক্রিয়া থেকে সরানোর জন্য দিল্লি হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন নোটিস জারি করে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়। এদিনই অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম জানিয়ে দিয়েছে, বিচারপতি ভার্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টেই যেতে হবে। এর আগেও তাঁকে দিল্লি থেকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলির জন্য সুপারিশ করেছিল কলেজিয়াম। কিন্তু তাতে বাধ সাধে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু এদিন কলেজিয়াম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা সিদ্ধান্ত বদলাতে নারাজ। এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট। অবশ্য বার অ্যাসোসিয়েশন এদিনও বলেছে, এই আদালত কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড নয়। অভিযুক্ত বিচারপতির ইমপিচমেন্টেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
গত ১৪ মার্চ হোলির দিন বিচারপতি ভার্মার বাংলোয় আগুন লাগে। খবর পেয়ে আগুন নেভাতে যায় দমকল ও পুলিস। আগুন নেভানোর পর বিচারপতির বাংলো থেকে নগদ ১৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে তদন্ত করে সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ছবি ও ভিডিও সহ সেই রিপোর্ট নজিরবিহীনভাবে শীর্ষ আদালতের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। ওই রিপোর্টের সঙ্গে যে সব ছবি জমা দেওয়া হয়েছে, তাতেও পোড়া টাকা দেখা গিয়েছে। তদন্তের জন্য তিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।