নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অনলাইন গ্যাম্বলিং অর্থাৎ জুয়া বন্ধ করতে কেন ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার? বৃহস্পতিবার এই প্রশ্ন তুলে লোকসভায় সরব হল কংগ্রেস এবং তৃণমূল। স্রেফ কংগ্রেসের এস জ্যোতিমণি এবং তৃণমূলের কীর্তি আজাদই নন, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অনলাইন গেমিং ইস্যুতে সরকার কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। জবাবে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বিষয়টিকে জটিল প্রক্রিয়া বলেই কিছুটা দায় এড়ান। জানান, রাজ্য এবং কেন্দ্র উভয়েরই এটা বিষয়। জটিলতা রয়েছে। তবে তারই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার তার এক্তিয়ার মেনে ১ হাজার ৯৭ টি অনলাইন এবং বেটিং সাইটস বন্ধ করেছে।
কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে জ্যোতিমণি উল্লেখ করেন, ‘কিশোর বয়সিদের মধ্যে এটি নেশার মতো হয়ে গিয়েছে। অনেকে আত্মহত্যাও করছে। স্রেফ তামিলনাড়ুতেই সম্প্রতি ৪৮ জন কিশোর আত্মহত্যা করেছে। তামিলনাড়ুর (কংগ্রেস-ডিএমকে) সরকার বিধানসভায় অনলাইন গ্যাম্বলিং বন্ধ করতে বিলও পাশ করেছে। কিন্তু কেন্দ্র যতক্ষণ না কিছু কড়া ব্যবস্থা নেবে, ততক্ষণ কিছু হবে না।’ তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদ সমালোচনার সুরে বলেন, ‘এখন ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও অনলাইন গেমিং চলে। আদতে তা জুয়ার সমান। তাই কেন সরকার কোনও ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছে না?’ জবাবে একই কথা শোনান মন্ত্রী। বলেন, ‘জটিলতা রয়েছে। তবে আমরা চুপ করে বসে নেই।’
অন্যদিকে, আপত্তিকর বিষয়, এই তথ্য সামনে রেখে গত তিন বছরে সরকার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে কত টেকডাউন নোটিস পাঠিয়েছে? তা লিখিতভাবে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ সরাসরি কোনও সংখ্যার কথা জানাননি। পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নোটিস পাঠিয়ে কীভাবে আপত্তিকর বিষয় মুছে দেওয়া হয়, সেই নিয়ম জানিয়েছেন। তাই জবাবে অসন্তুষ্ট অভিষেক এ ব্যাপারে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিচ্ছেন।