


তেহরান: আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা খামেইনেইয়ের। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ছেলে মোজতবা খামেইনেই। কিন্তু, তিনি এখন কোথায়? যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণের পরও এই প্রশ্ন ঘুরপাক খোচ্ছে। মাঝে তাঁর মৃত্যু নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছিল। এই আবহে মার্কিন ও ইজরায়েলি আধিকারিকদের দাবি, মোজতবা জীবিত। কিন্তু দেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আর তাঁর হাতে নেই। সূত্র উল্লেখ করে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইরানের প্রকৃত ক্ষমতা এখন হতে তুলে নিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারাই কার্যত মোজতবাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
গত ৯ মার্চ মোজতবাকে দেশের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসানো হয়। কিন্তু, তার পর থেকে একবারও প্রকাশ্যে আসেননি তিনি। যদিও ১২ ও ২০ মার্চ দু’বার সরকারি সংবাদমাধ্যমে তাঁর বার্তা সম্প্রচার করা হয়েছে। মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রে খবর, হামলায় মোজতবা গুরুতর জখম হলেও বেঁচে আছেন। এখনও কিছু সরকারি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মতামত দিচ্ছেন। তবে বাবার তুলনায় তাঁর ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব করা হয়েছে। এই আবহে তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন দু’দেশের গোয়েন্দারা। পাশাপাশি, তাঁর দুই বার্তাকেও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এতদিন মনে করা হচ্ছিল, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিই সমস্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু, তাঁর মৃত্যুর পর নেতৃত্বে বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তা পূরণ করতে তৎপর আইআরজিসি।
যদিও মোজতবার ক্ষমতা খর্ব হয়েছে, এমন দাবি মানতে নারাজ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিওরিটি স্টাডিজের রাজ জিম্ট। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তার জন্যই তাঁকে আড়ালে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি সিআইএ ডিরেক্টর জন র্যাটক্লিফ ও ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির প্রধান জেমস অ্যাডামসও এই নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ইরানে নেতৃত্বের একটা অভাব তৈরি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু, এখনই সরকার-প্রশাসন ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধে আমাদের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যু হয়েছে। তবে গোটা ব্যবস্থা কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল নয়। তাই আমাদের লড়াই চলবেই।