নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তোলা চেয়ে না পাওয়ায় শনিবার বরানগরের এক ব্যবসায়ীকে ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রবিবার আরও একজনকে পাকড়াও করে পুলিশ। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন এখনও অধরা। এই ঘটনার মূল পান্ডা হিসেবে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বরানগরের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা শঙ্কর রাউত। তাঁকে সহ বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন পুলিশ হাত গুটিয়ে রয়েছে? এই প্রশ্নেই বরানগরজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল শোরগোল। বিধায়ক ঘনিষ্ঠতার কারণেই কি তাঁকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে? উঠছে এমন প্রশ্নও।
বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠি বলেন, ‘রবিবার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে। ধৃতদের জেরা করে শঙ্করের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’ বরানগরের বনহুগলির বাসিন্দা সুদীপ্ত ঘোষ। তিনি বরানগরের স্নেহাশিস চট্টোপাধ্যায়ের বারাসতের একটি ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ করেছিলেন। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেলেও সুদীপ্তবাবু তাঁর প্রাপ্য টাকা ফ্ল্যাট মালিকের থেকে পাননি বলে অভিযোগ। তাই তিনি কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছিল। সুদীপ্তবাবুর অভিযোগ, শঙ্কর রাউত চার সাগরেদকে তাঁর ফ্ল্যাটে পাঠায়। ফোন লাউড স্পিকারে দিয়ে তারা শঙ্করের নিদান শোনায়। তাঁকে শঙ্করের ক্লাবে যেতে বলে। তিনি যেতে রাজি না হওয়ায় শঙ্করের নির্দেশে ওই চারজন সুদীপ্তবাবুকে মারতে মারতে ক্লাবে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেখানে তাঁর কাছে এক লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়। তা দিতে তিনি অস্বীকার করায় ফের মারধর করা হয়। শনিবার সুদীপ্তবাবুকে ফ্ল্যাট থেকে মারধর করতে করতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ বিজেপি নেতা সজল ঘোষ নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাহুল যাদব ওরফে বগা ও আয়ূষ কুণ্ডু ওরফে গোপালকে শনিবারই গ্রেপ্তার করে। রবিবার গ্রেপ্তার করা হয় অরিত্র দাস ওরফে দীপকে।
এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত অর্পণ দত্ত। সে শঙ্কর রাউতের অন্যতম সাগরেদ তথা বরানগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি। বিরোধীদের অভিযোগ, শঙ্কর রাউতই দলবল পাঠিয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর করতে করতে তুলে এনেছিল। তাহলে শঙ্কর সহ বাকিদের এখনও কেন ছাড় দেওয়া হচ্ছে? বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, ‘আমরা জেনেছি, পুলিশ শঙ্কর রাউতের নাম এফআইআর থেকে বাদ দিয়েছে। আমরা হাইকোর্টে যাব। এর শেষ দেখে ছাড়ব।’ প্রসঙ্গত, শঙ্করের বিরুদ্ধে এলাকায় দাদাগিরি, মারপিটের বহু অভিযোগ রয়েছে।