• ভবিষ্যৎ সকলেরই অজানা। আগামী দিনে বাস্তবের মতো পরাবাস্তবও পণ্য হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব বণিকেরা এই সব পরাবাস্তব বিষয় নিয়ে কি সত্যিই ভাবতে শুরু করেছে? বিশ্বায়নের যুগে হয়তো সেই দিন আর বেশি দূরে নয়। নাটক ‘কেনার পালা’ সেই ভাবনাকেই উস্কে দেয়। হরিনাভি বঙ্গনাট্য সমাজ প্রযোজিত নাটকটির নাট্যকার ইন্দ্রাশীষ লাহিড়ী। নির্দেশনায় চন্দন মিত্র।
এই নাটকে পরিচালক দেখিয়েছেন মানুষের অতীত, ভবিষ্যৎ কীভাবে পণ্য হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাপী বণিকের দল তাদের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে নতুনের সন্ধানে নজর রাখছে পৃথিবীর আনাচে কানাচে। সেই অন্বেষণে বাংলার গ্রাম-গঞ্জ বাদ পড়েনি। অভাবের তাড়নায় সিকান্দার জমি বিক্রি করার জন্য সকাল হলেই শৈশবের বন্ধু মলয়ের বাড়ির দরজায় হাজির হয়। নানা অছিলায় সে সিকান্দারকে বিদায় জানায় দিনের পর দিন। একদিন শেষ চেষ্টার আশায় সিকান্দার ভোরে বেরিয়ে পড়ে বাড়ি থেকে। ট্রেনে তার সঙ্গে দেখা হয় বিশ্ব বণিক শাইলকের। এখানেই ঘটে যায় অদ্ভুত কাণ্ড। অভাবের তাড়নায় সিকান্দার পাহাড় প্রমাণ অর্থের বিনিময়ে নিজের অতীত বিকিয়ে দেয়। তারপরই বদলে যায় আর্থিক ভাবে দুর্বল সিকান্দারের জীবন। অর্থের বাহুল্যে ওঠা পড়া করতে থাকে তার ইচ্ছের থার্মোমিটার। এই বাহুল্য তার জীবনকে প্রভাবিত করলেও মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে পরিবারের সঙ্গে। দূরত্বের কারণে পিতা, কন্যা ও শেষে জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে অনুভব করে তার দুনিয়ায় সে একা।
সিকান্দারের বর্ণময় চরিত্রে চন্দন মিত্র অনবদ্য। আব্বার চরিত্রে সমর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় মন ছুঁয়ে যায়। রেশমার চরিত্রে ত্রিতৃপ্তি শীলের অভিনয়ের মধ্যে পরিবারের দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। শাইলকের চরিত্রে উত্তম চট্টোপাধ্যায় অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
এই নাটকের মধ্যে দিয়ে এক মূল্যবোধহীন সমাজকে উপস্থাপনা করা হয়েছে। যেখানে এক শ্রেণীর মানুষ অর্থের উপর জীবনতরী ভাসিয়ে বাস্তবের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রাখতে চায়। আর এখানেই তারা হারাতে থাকে সব। যখন সংবিত ফেরে তখন তাদের চারপাশ শূন্যতায় ভরা।
নাটকের পাশাপাশি নাট্যদলের কথাও উল্লেখ করা প্রয়োজন। হরিনাভি বঙ্গনাট্য সমাজ পৃথিবীর প্রাচীনতম দলগুলির একটি। ১৮৬২ সালে বাংলার মৌলিক নাট্যকার পণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্নের হাতে সৃষ্টি হওয়া এই দলের প্রবাহধারা আজও বিদ্যমান। তাপস কাঁড়ার