


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’। এই নামেই নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নির্দেশ দিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে কোনো নির্দেশ জারি করতে পারবে না কমিশন। অথচ, সেই নির্দেশ উড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমেই নির্দেশনামা কমিশনের! রীতিমতো স্ক্রিনশট সামনে এনে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার চারটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে দাবি তুললেন, কমিশনে যথারীতি চলছে হোয়াটসঅ্যাপ রাজ।
এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই তৃণমূলের অভিযোগ, এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। লিখিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বদলে সরকারি নির্দেশিকা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছে। এটা বেআইনি। শীর্ষ আদালতের নজরেও বিষয়টি এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দাবি ছিল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এভাবে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যদিও কমিশনের ব্যাখ্যা, হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দেওয়ায় কোনো ভুল নেই। কাজের সুবিধার্থেই এই সমাজমাধ্যম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই সাফাই উড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানো নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
ঠিক এই প্রেক্ষাপটে এবার হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানো সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ চরমে নিয়ে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে কমিশন। মাইক্রো অবজার্ভার দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। বুধবার অভিষেক যে স্ক্রিনশটগুলি সামনে এনেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, ‘ইআরএমও দক্ষিণ ২৪ পরগনা’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে অফিসারকে। অভিষেকের অভিযোগ, ‘স্পেশাল রোল অবজারভার সি মুরুগান এই গ্রুপে সরাসরি মাইক্রো অবজার্ভারদের জন্য জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে নির্দেশ জারি করছেন। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
কী আছে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায়? একটিতে মুরুগান নির্দেশ দিচ্ছেন, জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত থেকে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। নতুবা নয়। সেক্ষেত্রে এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সই করা বার্থ সার্টিফিকেট আনতে হবে। আর একটি স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে মুরুগান লিখছেন, ‘প্রত্যেক ইআরএমওকে অনুরোধ করা হচ্ছে, নির্দেশিকা মেনে চলুন। বাংলায় পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু হয় সেনা বা আধাসেনায় অবাঙালিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে। অন্য কোনও ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।’ এই বার্তা দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তুলে ধরেছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাঁদের কাজ সহায়ক হিসাবে। কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। এমনকি জেলাভিত্তিক রোল অবজার্ভারও নিয়োগ করেছে কমিশন। স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হলে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কেও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।’ তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘দিল্লির প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে চাইছে কমিশন। তার জন্যই একাধিক পদক্ষেপ করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। কমিশন বৈধতা লাভ করে জনবিশ্বাস থেকে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে নয়। ফলে আমরা এই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের সামনে তুলে ধরব।’ অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘দিল্লির জমিদারদের সঙ্গে যুক্ত বা তাদের নির্দেশে কাজ করা যে কোনো ব্যক্তিকে কঠোর এবং আপসহীন আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখুন!’