Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’, আতঙ্কে আত্মঘাতী পশ্চিম মগরাহাটের বাসিন্দা

নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ যাওয়া ও বিচারাধীন থাকার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ চলল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়। দু’টি ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় কমিশন।

ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’, আতঙ্কে আত্মঘাতী পশ্চিম মগরাহাটের বাসিন্দা
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাসত : নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ যাওয়া ও বিচারাধীন থাকার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ চলল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়। দু’টি ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় কমিশন। 

Advertisement

চূড়ান্ত তালিকায় ‘বিচারাধীন’ হিসাবে নাম ছিল আলি গাজির (৪৪)। এর ফলে আতঙ্কে ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, আতঙ্কেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন যুবক। মৃতের বাড়ি মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার উস্তি থানার ঘোলা নয়পাড়া। আত্মহত্যার প্ররোচনা সহ একাধিক অভিযোগ তুলে উস্তি থানায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন মৃতের স্ত্রী আমিনা বিবি। 
মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন পেশায় ভ্যান চালক রফিক। বাড়ির লোকজন ফিরে এসে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। তড়িঘড়ি নামিয়ে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন যুবককে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, রফিকের স্ত্রী ও ছেলের নামও বিচারাধীন রয়েছে তালিকায়। মৃত্যুর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে দেহ নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কর্মীরা। চলে বিক্ষোভও। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে যথাযথ বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।  
তালিকা ঘিরে তপ্ত ছিল দেগঙ্গা। বুথের সিংহভাগ ভোটারের নাম বাদ বা বিচারাধীন। এর জেরে বুধবার বিক্ষোভ দেখালেন ‘বঞ্চিত’রা। ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। ঘটনাটি দেগঙ্গার কলসুর পঞ্চায়েতের রানিহাটি এলাকার ২৫৫ নম্বর বুথের। সেখানে মোট ভোটার ৯০২ জন। বিচারাধীন রয়েছেন ৬০০ জনের বেশি। 
ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়ে গ্রামের রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারী আনিসুর মহম্মদ তরফদার বলেন, নির্বাচন কমিশন আজ বিজেপির কমিশন। কারণ, ২০০২ সাল থেকে বাবা-মা দু’জনের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তারপরও আমার নাম বিচারাধীন। শুনানির জন্য আমাকে কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। 
শেখ ইসমাইলের অভিযোগ, আমাদের এলাকায় ৫৬০ জনের কোনো লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ছিল না। ফলে তাঁদের হিয়ারিং নোটিসও দেওয়া হয়নি। তারপরও ছ’শোর বেশি নাম বিচারাধীন তালিকায় এসেছে। অনেকের নামের উপর ডিলিট লেখা আছে। তাহলে কিসের ভিত্তিতে এই তালিকা? সুরাহা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। প্রয়োজনে ভোট বয়কট করব। গোটা ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন বুথের বিএলও বাকিবুল্লা তরফদার। তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলাম। খসড়া তালিকায় সকলের নাম ছিল। নোটিস না দিয়েই অধিকাংশ নাম বিচারাধীন তালিকায়। আমার নিজের নামও রয়েছে এই তালিকায়।

সম্পর্কিত সংবাদ