


কলহার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়...।’ তা কম সময় নয়, ১৯০ বছর ধরে সময়কে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেন্ট জনস চার্চের ক্লক টাওয়ার। মাঝেমধ্যে শরীর বিগড়েছে। ঠিক করার পর আবার চলেছে। ফের অচল হল
বিশাল ঘড়িটি। আপাতত সে স্তব্ধ। এখন ‘কটা বাজে’ জানাতে পারছে না কলকাতাকে। বিবাদী বাগে ১৮৭ ফুট উঁচুতে আকাশের কাছাকাছি আপাতত থেমে আছে সময়।
১৮৩৫ সালে সেন্ট জনস চার্চে ঘড়িটি টাওয়ারে বসানো হয়েছিল। সেটি বানানো ইংল্যান্ডে। লন্ডনের জেমস ম্যাককেব রয়্যাল এক্সচেঞ্জ তৈরি করে। তারপর জাহাজে চেপে সমুদ্র পেরিয়ে আসে। চার্চের মিনারের শৃঙ্গে রয়েছে দম দেওয়া ঘড়িটি। আকারে বিশাল বড়ো। ধাতু এবং কাঠ দিয়ে তৈরি। প্রায় ১৯০ বছরের প্রাচীন সেই কাঠের কাঠামোতেই হানা দিয়েছে উইপোকা। সঠিকভাবে দম দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কপিকল অব্যবহার্য অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন ঘড়িতে দম দেওয়ার নিয়ম। পদ্ধতিটি প্রাচীনকালের। কপিকলের মতো ওজন উপরে তোলা হয়। সেটি ২৪ ঘণ্টা ধরে একটু একটু করে নীচে নামে। কাজ অনেকটা লিভারের মতো। সেই গতিশক্তিতেই ঘড়ির কাঁটা ঘোরে। মোট তিনটি লিভার। একটি কাঁটা ঘোরায়। অন্যটি ১৫ মিনিট অন্তর ডিং ডং আওয়াজ করে। আর তৃতীয়টি একঘণ্টা অন্তর গং ধ্বনি শোনায়। এই সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটির অনেকটা অংশ কাঠের তৈরি প্ল্যাটফর্মে রয়েছে। সেই কাঠেই জায়গায় জায়গায় দাঁত বসিয়েছে উই। আগের বছরই ঘড়িটি সারানো হয়েছিল। তারপর চলছিল দিব্যি। এখন কাঁটা ঘুরছে না। সময়ও দেখাচ্ছে না।
এই ধরনের প্রাচীন ঘড়ি এখন কোটি টাকা দিলেও মেলা দুষ্কর। গোটা কলকাতায় হাতেগোনা কয়েকটি আছে। ফলে এর মেরামতের জন্য যোগ্য কারিগর পেতে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয়। এবং সারাতে প্রচুর খরচও হয়। ফলে বহু যুগ ধরেই উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি সেন্ট জনস চার্চের ঘড়ির। তার উপর থাবা বসিয়েছে বয়স। এবার উইপোকাও বসাল দাঁত। কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্য এই ক্লক টাওয়ার
নিয়ে অত্যন্ত সচেতন চার্চ কর্তৃপক্ষ। চার্চ অফিসার রঙ্গন দত্ত বলেন, ‘সারানোর পরিকল্পনা চলছে। কয়েক মাসের মধ্যেই মেরামত হবে। ফের চলতে শুরু করবে টাওয়ার ক্লক।’
তাড়াতাড়ি সেরে উঠুন প্রাচীন ঘড়ি। থমকে থাকা সময় আবার চলুক। তার গম্ভীর গলার গং শুনবে বলে অপেক্ষায় রয়েছে শহর। তাকে সচল দেখার আশায় ১৮৭ ফুট উপরে তাকিয়ে অধীর হয়ে আছে কলকাতা।