‘ধড়ক ২’ ছবিতে প্রেমের নতুন উপাখ্যান নিয়ে আসছেন সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী। সঙ্গী তৃপ্তি দিমরি। এক আড্ডায় নেপথ্যের নানা গল্প শোনালেন নায়ক।
‘ধড়ক ২’ ছবিতে প্রেমের নতুন উপাখ্যান নিয়ে আসছেন সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী। সঙ্গী তৃপ্তি দিমরি। এক আড্ডায় নেপথ্যের নানা গল্প শোনালেন নায়ক।
দায়িত্ব বেশি
‘ধড়ক ২’ আদতে সিক্যুয়েল। প্রথম ছবি হিট হওয়ার পর সিক্যুয়েলের ক্ষেত্রে কি দায়িত্ব বেড়ে যায়? অভিনেতার জবাব, ‘আমি এটাকে স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল বলব। ‘ধড়ক’ অনেক বেশি রঙিন ছিল। আমাদের এই ছবির গভীরতা অনেক বেশি। তবে সিক্যুয়েল বলে দায়িত্ব তো নিশ্চয়ই রয়েছে। সিক্যুয়েল আগের ছবির তুলনায় আরও ভালো হওয়া উচিত।’
কলেজ জীবন
‘ধড়ক ২’ ছবিতে কলেজ জীবনের নানা দিক নিয়ে গল্প এগিয়েছে। কখনও কলেজের রোমান্স, কখনও বা আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে চিত্রনাট্যে। সিদ্ধান্তের কলেজ জীবন কেমন ছিল? আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। আসলে কলেজ আমি উপভোগ করতে পারিনি। কারণ স্নাতক স্তরের পড়াশোনার পাশাপাশি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেটের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম। তাই সারাদিন পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতাম। বাকি সময়ে নাটক করতাম।’
সামাজিক ভেদাভেদ
উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার মধ্যবিত্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে সিদ্ধান্ত। ‘ধড়ক ২’ ছবিতে জাতপাতের বিষয়ও দেখানো হয়েছে। এপ্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত বলেন ‘আমার দাদু পণ্ডিত ছিলেন। দাদু এবং বাবা দু’জনেই প্রগতিশীল মানুষ। সব বর্ণের মানুষ বাবার বন্ধু। আমি সকলের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম। আসলে ওঁরা আমাকে যে কোনওরকম ভেদাভেদ থেকে দূরে রাখতেন। কিন্তু দেখেছি যে, আমরা বলা সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে এক আসনে বসে সকলে খাবার খেতেন না। আসলে মানুষের চিন্তাভাবনায় এই সংস্কৃতি রয়ে গিয়েছে।’ কখনও বা আর্থিক মানদণ্ডের নিরিখে সিদ্ধান্ত নিজে ভেদাভেদের সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হওয়ায় বলিউডে এসে ভেদাভেদ দেখেছি। কারও বাড়িতে বা বলিউড পার্টিতে গিয়ে মধ্যবিত্ত হওয়ার জন্য অনেক সময় আমার অস্বস্তি হয়েছে। জীবনের এসব টুকরো অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি চরিত্রটা সাজিয়ে তুলেছি।’
অনুপ্রেরণা
সিদ্ধান্তের পরিবারের কেউই অভিনয় পেশার সঙ্গে যুক্ত নন। সেখান থেকে বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই সহজ ছিল না। বাবার অনুপ্রেরণা ছাড়া এই জার্নি সম্ভব হতো না বলে মনে করেন অভিনেতা। আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত বলেন, ‘বালিয়ার মতো ছোট শহর থেকে মুম্বইতে এসে বড় করেছেন বাবা। সমাজের কটাক্ষ উপেক্ষা করে আমার স্বপ্নপূরণ করতে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি বাবা-মায়ের ছোট ছোট ইচ্ছে পূরণ করার চেষ্টা করি। যেখানে যাই মায়ের জন্য ঝুমকো নিয়ে আসি। দামি উপহারের চেয়ে সাধারণ ঝুমকোতেই মা বেশি খুশি হন।’
নিজেকে অন্বেষণ
কমেডি, র্যাপার, অ্যাকশন, ধূসর, রোমান্টিক— নানা চরিত্রে কাজ করেছেন সিদ্ধান্ত। নিজেকে অন্বেষণ করতে ভালোবাসেন? স্মিত হেসে অভিনেতা বলেন, ‘এখনই নিজেকে নিয়ে পরীক্ষা করার বয়স। টাইপকাস্ট হয়ে গেলে মুশকিল। একই ধরনের চরিত্র বারবার করলে একটা বাজার তৈরি হয়। আমি বাজার তৈরি করতে নয়, ভাঙতে চাই।’
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই