নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনের ফুটপাতে ফ্লেক্স পেতে কয়েকজন বসে রয়েছেন। বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজেছেন তাঁরা। উত্তরপ্রদেশ থেকে এসএসসি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিতে এসেছেন তাঁরা। সকলেই উচ্চশিক্ষিত। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি সাহিত্যর এক গবেষকও রয়েছেন। গবেষক দীনেশ পাল বলছিলেন, ‘আমাদের রাজ্যে শুধু ধর্ম নিয়ে রাজনীতি হয়। চাকরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ কথা বলেন না। এখানে তো তাও পরীক্ষা হচ্ছে।’ একটু থেমে তাঁর সংযোজন, ‘সারা দেশেই তাই।’ কিন্তু বিজেপিকে তো আপনারাই এনেছেন। গবেষকের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘ভুল করেছি।’
কিন্তু বাইরের রাজ্যে তো বাংলা বললেই আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বাঙালিরা। এই আবহে কলকাতায় আসতে ভয় করেনি? এলাহাবাদের কৌশাম্বীর দীনেশ, জৌনপুরের রামবাহাদুর গৌতম, গাজিয়াবাদের বিবেক কুমার একসঙ্গে বললেন, ‘এখানে ভাষাগত সমস্যায় পড়তে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কলকাতার মানুষ খুবই সহযোগিতা করেছেন।’ উচ্চশিক্ষিত এই যুবকদের কাছে শুধুই ডিগ্রি রয়েছে। পকেটে নেই টাকা। বাড়ি থেকে হাজারদুয়েক টাকা নিয়ে এসে স্টেশনেই রাত কাটিয়েছেন তাঁরা। এবার যাদবপুর বিদ্যাপীঠে পরীক্ষায় বসবেন। ওঁদের ঠিক পাশেই বড় ব্যাগ, ছোট কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসে ছিলেন ডঃ প্রমোদ যাদব। বলছিলেন, ‘আমি বিশাখাপত্তনমে পড়াই। স্ত্রী পরীক্ষা দেবেন। তাই মেয়েকে নিয়েই আসতে হল।’ মেয়ে কিন্তু তখন একমনে ছবি এঁকে চলেছে। আবার দিনকয়েক আগে গোরখপুর থেকে অনুপ সিং এসেছিলেন নবম-দশমের পরীক্ষা দিতে। তিনি পরীক্ষা দিতে এসেছেন এদিনও। বলছিলেন, ‘পরীক্ষার সঙ্গে কলকাতাও ঘোরা হল। এখানকার মানুষজন খুবই ভালো।’