নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা ভোট। ইতিমধ্যে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে দেশ উত্তাল। বিতর্ক চলছে সংসদ থেকে চায়ের দোকেনে। এই আবহে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত হবেন যে কর্মীরা, তাঁদের জন্য নয়া ফরমান দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচন কমিশন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করলে সেখানে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে হবে। বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) বাড়ি বাড়ি যাবেন ভোটার তালিকার কাজ করতে। সেই সময় সব জায়গায় বিজেপি প্রতিনিধিদের হাজিরা কার্যত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিএলওরা নিয়ম মেনে কাজ করছেন কি না, নজরদারি চালাবেন তাঁরা। জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে কোনও অস্থায়ী কর্মীকে নিয়োগ করা যাবে না। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই নির্দেশ মানছে না বলে ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠেছে। অমিত শাহ নির্দেশ দিয়েছেন, এই ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংক্রান্ত অভিযোগ দলের ‘সরল আ্যপ’-এ নথিভুক্ত করতে হবে। এই অ্যাপ বিজেপির নির্বাচন সংক্রান্ত দলীয় পরিসংখ্যানের ব্যাঙ্ক বলা যায়। দেশজুড়ে বিজেপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলে এই অ্যাপের মাধ্যমে।
সম্প্রতি দিল্লিতে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ একাধিক নেতৃত্বের সঙ্গে এক বৈঠকে এই ‘শাহি নির্দেশ’ এসেছে। এই প্রক্রিয়া চলবে ধারাবাহিকভাবে। অর্থাৎ, প্রতিদিন দলের নেতাদের জানাতে হবে বর্তমান স্টেটাস। কেন্দ্রীয়ভাবে তা ‘সরল অ্যাপে’ নথিভুক্ত হবে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় নেতারা ঠিক করবেন, কোন ইস্যু নিয়ে সর্বাত্মকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে। দলীয় পর্যায়ে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কর্মীদের সরগড় করতে জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ শিবির করবে বিজেপি। বিজেপি সূত্রে খবর, আগস্টের শেষে কিংবা সেপ্টেম্বরের গোড়ায় বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধন কাজ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। সেই মতো বঙ্গ বিজেপিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখার বার্তা দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।



