Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৫ বছরের উন্নয়নেই পার হবে ভোট বৈতরণী, জয় নিয়ে প্রত্যয়ী লাভলি

সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ও ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত। অতীতে যখন সোনারপুর বিধানসভা ছিল, সেই সময় বামেদের দাপট ছিল এখানে।

৫ বছরের উন্নয়নেই পার হবে ভোট  বৈতরণী, জয় নিয়ে প্রত্যয়ী লাভলি
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:০৪

সোহম কর, কলকাতা: সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ও ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত। অতীতে যখন সোনারপুর বিধানসভা ছিল, সেই সময় বামেদের দাপট ছিল এখানে। ২০০১ সালে এই কেন্দ্রে একবার জোড়া ফুল ফুটেছিল। ২০০৬ সালে সিপিএম ফিরে আসে। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে দুই পর্যায়ে বিধায়ক হন জীবন মুখোপাধ্যায়। ২০২১ সালে জনপ্রিয় অভিনেত্রী অরুন্ধতী মৈত্র ওরফে লাভলিকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তিনি জিতে যান। এই বছরও তিনি প্রার্থী। লাভলি প্রবল প্রত্যয়ী। তাঁর প্রত্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে উন্নয়ন।

Advertisement

কলকাতা শহর থেকে কিছু দূরে এই বিধানসভা এলাকা পুরোদস্তুর শহর। ফ্ল্যাট হয়েছে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, বেসরকারি কলেজ তৈরি হয়েছে। ফলত, শহর থেকে লোকজনের যাতায়াত বেড়েছে। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের জীবন মুখোপাধ্যায় প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। পরের বছর লাভলি সেই শতাংশ মোটামুটি ধরে রেখেছিলেন। তবে এখানে বদলে গিয়েছিল বিরোধীদের ভোটপ্রাপ্তির চিত্র। ২০১৬ সালে এখানে সিপিআই পেয়েছিল ৪০ শতাংশ ও বিজেপি পেয়েছিল ৮ শতাংশের কাছাকাছি ভোট। ’২১ সালে গিয়ে বিজেপি পায় ৩৬ শতাংশ। সিপিআই তথা বামেদের ভোট নেমে আসে ১৪ শতাংশের আশপাশে। এ বছর তৃণমূল প্রার্থী অপরিবর্তিত থাকলেও সিপিআই ও বিজেপি প্রার্থী বদল করেছে। গত বিধানসভায় এখানে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। এবার দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সিপিআই প্রার্থী করেছিল তরুণ শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার তারা প্রার্থী করেছে প্রবীণ পারমিতা দাশগুপ্তকে। 
এত শতাংশের হিসাবে মন দিতে চান না লাভলি। তিনি বলছেন, ‘৫ বছর কাজ করেছি। জয়ের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে গিয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে মানুষ।’ কিন্তু বৃষ্টির সময় জল জমার অভিযোগ রয়েছে বিরোধীদের। লাভলি বলছেন, ‘কাজ করার ইচ্ছা থাকলে আরও করা যায়। সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতাল স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেছেন।’ লাভলি আরও বলেন, ‘নিকাশির কাজকর্ম শুরু হয়ে গিয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক জায়গায়।’ লাভলি মনে করেন, ‘এসআইআর, গ্যাসের দাম নিয়ে নাজেহাল মানুষ। চিহ্নিত করে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই লড়াই আসলে বাংলার মানুষের সঙ্গে বিজেপির।’ অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় মনে করছেন, মানুষ সোনারপুর দক্ষিণে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তিনি অনুন্নয়নকেই হাতিয়ার করছেন। এসবের মাঝে লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে বামেরাও। যদিও স্থানীয় নেতাদের একাংশ মনে করছেন, প্রার্থী যদি কাস্তে হাতুড়ি তারার হত, তবে লড়াই আরও জোরদার হতে পারত। কিন্তু আলিমুদ্দিনের কথা মেনে নিয়েই এগচ্ছেন তাঁরা।

সম্পর্কিত সংবাদ