প্রীতেশ বসু, দীঘা: রথের রশি ছুঁলেই পুণ্য। সেই বিশ্বাসে ভর করেই শুক্রবার লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন দীঘায়। রাস্তার দু’ধারে বাঁশের অস্থায়ী ব্যারিকেডের বাইরে থেকেই রশি ছোঁয়ার ইচ্ছে পূরণ হল তাঁদের। কিন্তু যে ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক তিনটি রথ টেনে এক কিলোমিটার দূরে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের পুণ্য কি বেশি হল? অবশ্যই হবে! এমনটাই বিশ্বাস দলে থাকা অভিজিৎ সেন, সৌরভ মাইতিদের। তবে শুধু পুণ্য লাভই নয়, সুষ্ঠুভাবে মাসির বাড়ি পর্যন্ত রথ টানার কাজ সম্পন্ন করায় তাঁরা পাচ্ছেন আর্থিক পুরস্কারও। ওই ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রত্যেকে পাবেন পাঁচ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মন্দিরের ভিতর থেকে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসা হয় নন্দীঘোষ (জগন্নাথদেবের রথ), তালধ্বজ (বলরামের রথ) এবং দর্পদলন (দেবী সুভদ্রার রথ)। দাঁড় করানো হয় মন্দিরের মূল ফটকের সামনে। রাত ১০টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় মন্দিরের মূল ফটকের সামনে নিয়ে আসা সম্ভব হয় তিনটি রথ। দাঁড়িয়ে থেকে কাজের তদারকি করতে দেখা যায় রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, ডিজি রাজীব কুমার, জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি, পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য, হাওড়ার পুলিস কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী থেকে শুরু করে রাজ্যের তাবড় আধিকারিকদের। স্বাভাবিক ভাবেই ইসকন, সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের স্বেচ্ছাসেবক, সিভিল ডিফেন্স, পুলিস ছাড়াও মন্দিরের কাজে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে গঠিত দলের উপর বর্তে ছিল শুক্রবার মূল পর্বে রথ টানার দায়িত্ব। প্রতিটি রথে নিযুক্ত ছিলেন ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক। এছাড়া ৪০ জনকে রাখা হয়েছিল তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য। অর্থাৎ, মোট ১০০ জন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তুতি চলাকালীন রথগুলি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোর কাজে নিযুক্ত ছিলেন নির্দিষ্ট কিছু কর্মী। সেই কারণে তাঁরা এই কাজে যথেষ্ট অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। ফলে ইসকন এবং ধর্মীয় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক থাকলেও, এই সব কর্মীদের দলে রাখা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।
বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে মন্দিরের মূল ফটকের সামনে রথ নিয়ে এসে রাখার পর, সেখানেই দলের সদস্যদের ‘ব্রিফিং’ দেন ডিজি রাজীব কুমার। তিনি বলেন, ‘কাজ সকলেই করছেন। কিন্তু আপনারা যে কাজটা করছেন, তা অনেকের থেকে বেশি। সব চেয়ে বেশি পুণ্যের কাজ করছেন আপনারা। ভালো করে রথ নিয়ে যেতে হবে। যা করতে পারলেই আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। কেউ অনুপস্থিত থাকবেন না। সঠিক সময় চলে আসবেন।’ অবিলম্বে এই পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে পুলিস সুপারকে নির্দেশ দিতেও শোনা গিয়েছে তাঁকে। স্বেচ্ছাসেবকদের দলে থাকা বেশ কয়েকজন জানান, এই কাজ সফলভাবে করতে পারলে তাঁদের পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে পুলিসের তরফে। নিজস্ব চিত্র