


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: রামপ্রসাদ সেনের স্ট্রোক হয়েছে। চাষি মানুষ। বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর। চিকিৎসা হয়েছে। মাথার বামদিকে রক্ত জমে গিয়েছিল। সেটা কমেছে। কথাবার্তার জড়তা কমেছে। খাওয়াদাওয়াও এখন অনেকটা স্বাভাবিক। স্ট্রোকের জন্য শরীরের ডানদিকটা পড়ে গিয়েছিল। সেটা আর ঠিক হচ্ছে না। ডাক্তারবাবু বলেছিলেন ফিজিওথেরাপি করাতে। ছেলেরা ব্যস্ত। ৪০ কিমি দূরে সদর হাসপাতালে কে নিয়ে যাবে? বাড়ির সামনে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। সেখানে স্ত্রী-পাড়া-প্রতিবেশির সাহায্যে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেখানে যে আবার ডাক্তার নেই!
রাজ্যজুড়ে স্ট্রোক নেটওয়ার্ক শুরু হয়েছে কয়েক বছর হল। তাতে যুক্ত মেডিকেল কলেজ, জেলা ও মহকুমা মিলিয়ে ৪২টি হাসপাতাল। কিন্তু এই টেলি নিউরো পরিষেবায় ফিজিওথেরাপি ছিল না। এইবার সেটাই শুরু করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। শুধু তাই নয়, বিশেষ ধরনের চশমার মাধ্যমে স্ট্রোকের রোগীদের জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি তৈরি করে শেখানো হবে ফিজিওথেরাপি। স্বাস্থ্যদপ্তর এবং আইআইটি খড়্গপুর যৌথভাবে শুরু করেছে এই প্রকল্প। চশমাটি তৈরি করছে আইআইটি খড়্গপুর। ২ কোটি টাকার প্রকল্পটি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের মান্যতা পেয়েছে। শুরু হয়েছে কাজ।
ব্যাপারটা ঠিক কেমন? স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, স্ট্রোকের রোগীদের মোটামুটি ছয় থেকে সাত ধরনের পেশায় ভাগ করা হবে। যেমন, শ্রমিক, চাষি, দোকানদার, বেসরকারি কর্মী, সরকারি কর্মী ইত্যাদি। বিশেষভাবে তৈরি চশমা যখনই কোনও নির্দিষ্ট পেশার রোগীকে পরানো হবে, তার চোখের সামনে ভেসে উঠবে নিজের পেশার মতো পরিবেশ। যেমন, যিনি চাষি, তাঁর সামনে মাঠ, খেত। রোগী শ্রমিক হলে, তাঁর সামনে ভেসে উঠবে কারখানার পরিবেশ।
কিন্তু, তাতে লাভ কী হবে? প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর (পিআই) তথা বিশিষ্ট স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ বিমানকান্তি রায় বলেন, বিভিন্ন পেশাজীবীদের ভাচুর্য়াল রিয়েলিটি চোখের সামনে ভেসে উঠলে, রোগী নিজের কাজের জায়গা মনে করতে পারবেন। ঠিক কীভাবে হাত, পা সঞ্চালন করে বা শরীরকে কাজে লাগিয়ে কাজটা করতে হয়, চোখের সামনে দেখবেন। স্ট্রোকের অক্ষমতা কাটিয়ে সেভাবে কাজ করবার ইচ্ছাও তৈরি হবে। আমাদের শেখাতেও সুবিধা হবে।
স্ট্রোকে এইভাবে ফিজিওথেরাপি শেখালে কাজের কাজ কতটা হবে? ফিজিওথেরাপিস্ট অর্পণ মণ্ডল বলেন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে লাভ হল, স্ট্রোকের রোগীর নিজের পেশা ও কীভাবে সেই পেশার কাজ হত, সেগুলি মনে পড়ে যাবে। ফের ওইভাবে হাত-পা সঞ্চালনের তাগিদ তৈরি হবে। কিন্তু সত্যিই যদি ফিজিওথেরাপির পুরো লাভ পেতে হয়, হাতেকলমেই শিখতে হবে। কারণ, তত্ত্বের উপর ফিজিওথেরাপি চলে না। এটি হাতেকলমে রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝার এবং তা থেকে উদ্ধারের পথ বাতলে দেওয়ার বিদ্যা।