Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিলেন এল নিনো, দেশে বর্ষাকালীন বৃষ্টি এবার অনেকটাই কম হতে পারে

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা আগেই অশনিসংকেত দিয়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের আবহাওয়া দপ্তরও সোমবার তাদের প্রথম পূর্বাভাসে জানিয়ে দিল, মূলত ‘এল নিনোর’ প্রভাবে দেশে এবার সার্বিকভাবে বর্ষাকালীন সময়ের (মনসুন) বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কম হতে পারে।

ভিলেন এল নিনো, দেশে বর্ষাকালীন  বৃষ্টি এবার অনেকটাই কম হতে পারে
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা আগেই অশনিসংকেত দিয়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের আবহাওয়া দপ্তরও সোমবার তাদের প্রথম পূর্বাভাসে জানিয়ে দিল, মূলত ‘এল নিনোর’ প্রভাবে দেশে এবার সার্বিকভাবে বর্ষাকালীন সময়ের (মনসুন) বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কম হতে পারে। দীর্ঘকালীন সময়ের গড় বৃষ্টিপাতের (এলপিএ) তুলনায় জুন থেকে সেপ্টেম্বরে বর্ষার বৃষ্টি ৯২ শতাংশ হতে পারে। জানানো হয়েছে এমনই আশঙ্কার কথা। এলপিএ-র তুলনায় বৃষ্টি ৯০-৯৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম বলে মনে করা হয়। ১৯৭১-২০২০ পর্যন্ত সময়ে বৃষ্টিপাতের নিরিখে এলপিএ নির্ধারণ করা হয়। এই হিসেবে দেশে বর্ষার চারমাসে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ৮৭ সেন্টিমিটার। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই পূর্বাভাসের ৫ শতাংশ এদিক ওদিক (কম বেশি) হতে পারে। অর্থাৎ বৃষ্টি স্বাভাবিকের ৯০ শতাংশের নীচে নামতে পারে। গত বছর বর্ষাকালে দেশজুড়ে ভালোই বৃষ্টি হয়েছিল। সার্বিকভাবে স্বাভাবিকের ১০৮ শতাংশ বৃষ্টি হয় গতবার। যেহেতু বর্ষার বৃষ্টি দেশে চাষবাসের বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খরিফ চাষের ফলনের ভাগ্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে, তাই বৃষ্টির স্বল্পতা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারের কাছে বেশ চিন্তার ব্যাপার।  ভারতের অর্থনীতিতে কৃষির প্রভাব বিরাট। 

Advertisement

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষার বৃষ্টির যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বড়ো অংশে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ এমনিতেই অনেকটা বেশি। সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ সমস্যা হবে না। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি যেখানে এমনিতে বৃষ্টি কম হয়, সেখানে আরো কম বৃষ্টি হলে সংকট হতে পারে।  কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু এলাকায় শুধু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হবে। জানানো হয়েছে এমনটাই।  রাজস্থান, গুজরাত, মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যের বড়ো অংশে বৃষ্টি এমনিতে কম হয়। সেখানে বৃষ্টি আরো কমলে সংকট দেখা দিতে পারে। বৃষ্টি কম হওয়ার জন্য মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো পরিস্থিতিকে দায়ী করেছে আবহাওয়া দপ্তর। এখন এসনো নিউট্রাল পরিস্থিতি চলছে সেখানে। জুন মাস পর্যন্ত এটা থাকবে। তবে জুন মাসে যখন দেশে বর্ষার আগমন হয় তখন এল নিনো চলে আসার সম্ভাবনা খুব বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলীয় জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি হলে এল নিনো হয়। এটা বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতির উপর প্রভাব ফেলে। তাই ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বৃষ্টির পরিমাণ কমার পাশাপাশি গরমও বাড়ে। ভারত মহাসাগরের ‘ডাইপোল’ পরিস্থিতি অর্থাৎ জলের উষ্ণতার পার্থক্য দেশে বর্ষার উপর প্রভাব ফেলে। এটা এখন ‘নিউট্রাল’ অবস্থা আছে। এটি ‘পজিটিভ’ হতে হতে বর্ষার প্রায় শেষ সময় এসে যাবে বলে জানানো হয়েছে। ডাইপোল প্রথম থেকে পজিটিভ থাকলে এল নিনোর প্রভাব কিছুটা আটকাতে পারত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এই ঘটনা অতীতে অনেকবারই হয়েছে। এবার পজিটিভ ডাইপোল বর্ষাকালে কতটা সুবিধা করে দিতে পারবে, তা নিয়ে একটা সংশয় থাকল। আবহাওয়া দপ্তর মে মাসে বর্ষার আরো একটি পূর্বাভাস দেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ