Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চুলের ছাঁটে সিপিএমের প্রতীক এঁকে তাক লাগিয়েছেন স্বরূপনগরের সবজিবিক্রেতা

ভালোবাসেন লাল ঝান্ডা। পেশায় সবজি বিক্রেতা। বিক্রিবাটার পর দিনের শেষে যেটুকু সময় থাকে, সেটা দলের কাজেই দেন স্বরূপনগরের মেদিয়ার বাসিন্দা গোপাল মালাকার।

চুলের ছাঁটে সিপিএমের প্রতীক এঁকে তাক লাগিয়েছেন স্বরূপনগরের সবজিবিক্রেতা
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভালোবাসেন লাল ঝান্ডা। পেশায় সবজি বিক্রেতা। বিক্রিবাটার পর দিনের শেষে যেটুকু সময় থাকে, সেটা দলের কাজেই দেন স্বরূপনগরের মেদিয়ার বাসিন্দা গোপাল মালাকার। ভোটের মরশুমে বাংলাজুড়ে চর্চায় বিজেপি ও তৃণমূল। দলের ‘অসময়ে’ হাই-ভোল্টেজ ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে হেয়ারস্টাইলে সিপিএমের প্রতীক এঁকে নজর কেড়েছেন তিনি।

Advertisement

জানা গিয়েছে, স্বরূপনগর ব্লকের তেপুল-মির্জাপুর পঞ্চায়েতের মেদিয়ায় বাড়ি গোপাল মালাকারের। তিনি এলাকায় ভুবন নামেই পরিচিত। সিপিএমের সক্রিয় কর্মী হিসাবেও তাঁর পরিচিতি আছে এলাকায়। এক সময়ে তিনি অটোচালকের কাজ করতেন। এখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ও বাজারে সবজি বিক্রি করেন। ভুবনের মাথায় কাস্তে-হাতুড়ির ছাঁটে লাল রং যেন নিছক অভিনবত্ব নয়, বরং একরাশ রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছেন সমর্থকরা। স্থানীয় একটি সেলুনে গিয়ে চুল কেটে ও রং করে মাথার উপর ফুটিয়ে তুলেছেন কাস্তে-হাতুড়ির প্রতীক। মাঝে মধ্যে হেয়ার স্টাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে তিনি লাল রঙের একটি গেঞ্জিও পড়ছেন ইদানীং। যেখানে লেখা— ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল। তাছাড়া ভুবনের প্রচার পদ্ধতিও আলাদা। হাতে লিফলেট বা পোস্টার নয়, নিজের মাথাকেই বানিয়েছেন চলমান প্রচারমাধ্যম। সকালে বাজারে সবজি বিক্রি করার সময় বা পাড়ায় হাঁটার সময় কিংবা চায়ের দোকানে— সর্বত্রই নজর কাড়ছে মাথার কাস্তে-হাতুড়ি। কৌতূহলী মানুষ থেমে দেখছেন, কথা বলছেন, কেউ ছবি তুলছেন। সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে সেই ছবি। শুধু হেয়ারস্টাইলেই থেমে থাকেননি ভুবন। দেওয়াল লেখার আগে চুনকাম ও রংয়ের কাজেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, একদিকে দেওয়ালকে রাঙানোর চেষ্টা, অন্যদিকে নিজের শরীরেই সেই রং ধরে রাখার প্রয়াস— দু’টিই একসঙ্গে চালাচ্ছেন তিনি। 
ভুবনের রাজনৈতিক যাত্রায় রয়েছে ওঠাপড়া। এক সময় অটো চালাতে গিয়ে পেশাগত বাধ্যতায় অন্য দলের পতাকা হাতে নিতে হয়েছিল তাঁকে। তবে বর্তমানে সেই কাজ ছেড়ে ফের নিজের বিশ্বাসেই ফিরে এসেছেন ভুবন। তাঁর কথায়, আমি শ্রমজীবী মানুষ। ছোটো থেকেই বামপন্থী আদর্শে বড়ো হয়েছি। কলেজে পড়ার সময় এসএফআই করতাম। এখনও মনে করি, শ্রমিক-কৃষকের জন্য বামপন্থী রাজনীতিই সবচেয়ে প্রয়োজন।  রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে বামেদের প্রভাব ক্রমশ কমেছে, সংগঠনের রং ফিকে হয়েছে অনেকটাই। সেই বাস্তবতায় ভুবনের মাথার কাস্তে-হাতুড়ি এক প্রতীকী উপস্থিতি।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ