


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছে গেল উজবেকিস্তান ও জর্ডন। এশিয়া থেকে প্রথমবারের জন্য বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে উল্লসিত উজবেক সমর্থকরা। কিন্তু এই ঘটনাই হতাশা বাড়াচ্ছে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের। ১৯৯৫ সালে নেহরু কাপে অনূর্ধ্ব-২০ দল পাঠায় উজবেকিস্তান। যুবভারতীতে তাদের ১-০ ব্যবধানে হারায় রুস্তম আক্রামভের ভারত। একমাত্র গোলটি করেছিলেন বাইচুং ভুটিয়া। উল্লেখ্য, সেবারের নেহরু কাপেই জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটে বাইচুংয়ের। পরের তিন দশকে হু হু করে এগিয়েছে উজবেকিস্তান। আর ভারত? বর্তমান অবস্থা ঠিক যেন, আট আনার পুঁইশাক তার আবার ক্যাশমেমো। সেদিনের তরুণ বাইচুং এখন প্রাক্তনীর তালিকায়। মুঠোফোনে তাঁর গলায় একরাশ হতাশা। বললেন, ‘লজ্জা লাগছে। ড্যাং ড্যাং করে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে উজবেকিস্তান। আর আমরা? শুনেছি বাংলার বিরুদ্ধে নাকানিচোবানি খেয়েছে মানোলোর দল।’ রাগে গজরাচ্ছেন তিনি। সংযোজন, ‘আরে, একদিনে সাফল্য আসে না। যুব ফুটবলেও উজবেকিস্তান এশিয়া সেরা। আর আমরা? বিশ্বকাপ দূর অস্ত। এশিয়ান কাপের টিকিট পাওয়াও অনিশ্চিত।’
বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যে ঘটা করে ‘ভিশন ২০৪৭’ প্রকাশ করেছে ফেডারেশন। আসলে লবডঙ্কা। ফিফা র্যাঙ্কিং ১২৭। ক্রমশই পিছচ্ছে জাতীয় দল। এভাবে চললে ডাবল সেঞ্চুরি সময়ের অপেক্ষা। বিদেশি কোচ দেখলেই নোলা ঝরে ফুটবল কর্তাদের। তাই আইএসএলে এফসি গোয়ার স্প্যানিশ কোচ মানোলো মার্কুয়েজের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। পারফরম্যান্স? শেষ ৭ ম্যাচে মাত্র একটি জয়। তাও আবার দুর্বল মালদ্বীপের বিরুদ্ধে। এখন পালাতে পারলে বাঁচেন মানোলো। মানরক্ষায় অবসর ভাঙিয়ে সুনীল ছেত্রীকে ফিরিয়ে এনেছিলেন মানোলো। ঠিক যেন বাস কন্ডাক্টরের মতো পিছনের দিকে এগিয়ে যান। বাইচুংয়ের তোপ, ‘সুনীলের আর কিছু পাওয়ার নেই। বোঝা উচিত, কখন খেলা ছাড়তে হয়। পুরোটাই গিমিক।’ পাশাপাশি ফেডারেশনকেও তোপ দাগলেন তিনি। বলছেন, ‘কল্যাণ চৌবে ফুটবলকে হত্যা করছে। কোনও পরিকল্পনা নেই। গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্টের নামে প্রহসন চলছে।’
আইএসএল চালু হওয়ার পর অনেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন। আপাতত রঙিন বেলুন চুপসে গিয়েছে। হাওয়ায় ভাসছে টাকা। পকেট ভরছে এজেন্টদের। বাইচুং বললেন, ‘প্রতিটা দলের উচিত শক্তিশালী জুনিয়র দল গড়া। সেটাই একমাত্র পথ। না হলে পরের ১০০ বছরেও হতাশার ছবি বদলাবে না।’