নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রতি বছর রাজ্য সরকারের ৩৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এমনই দাবি করলেন রাজ্যের অচিরাচরিত শক্তি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বরুণ রায়। বৃহস্পতিবার মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার শহর এলাকায় রাস্তার আলোগুলির জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। তার ফলে এই সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। স্কুল-কলেজগুলিও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘এ রাজ্যের সাড়ে তিন হাজার স্কুল এবং ৩০০টি কলেজে সোলার প্যানেল বসেছে। কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমাতে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু অচিরাচরিত বিদ্যুতের খরচ বেশি। সেই কারণেই এক সময় পশ্চিমবঙ্গে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহারে পিছিয়েছিল। তবে বর্তমানে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি পরিবহণের ৫০ শতাংশ ইলেকট্রিক গাড়িতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার।’ তিনি আরও জানান, এ রাজ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তার মাত্র ২০ শতাংশের সদ্ব্যবহার করা গিয়েছে। অচিরাচরিত শক্তি দপ্তরের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি এই অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ইউনাইটেড কিংডম বা অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলির মাথা পিছু কার্বন নির্গমনের তুলনায় ভারতের অবস্থা অনেকটাই ভালো। তা সত্ত্বেও ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাইছে দেশ। সেই লক্ষ্যে রাজ্য সরকারও অচিরাচরিত শক্তির ব্যবহারে ইনসেন্টিভ ঘোষণা করেছে।’ কলকাতায় বিদ্যুতের চাহিদা যে ক্রমশ বাড়ছে, এই অনুষ্ঠানে তা জানিয়েছেন সিইএসসি’র এমডি (ডিস্ট্রিবিউশন) বিনীত সিক্কা। তিনি বলেন, ‘এই মেট্রো শহরে বিদ্যুতের যে চাহিদা, তার ৮৫ শতাংশই আসে গৃহস্থের তরফে। এপ্রিল এবং মে মাসে বেলা ৩টে থেকে বিকাল ৪টে এবং রাত ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ হয়। সেই চাহিদা ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছোঁবে বলেই ধারণা এমডির। তার জন্য যে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন, তা করা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, বর্তমানে সিইএসসি এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদা আড়াই হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে থাকে।



