নয়াদিল্লি: ৯ জুলাই চালু হচ্ছে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক! ভারতের উপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাপানোর তারিখ আরও এক মাস পিছিয়ে দিল আমেরিকা। নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে, মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে এই ব্যবস্থা চালু হবে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা এখনও চলছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই আলোচনা ফলপ্রসূ করতেই পাল্টা শুল্ক কার্যকর করা থেকে পিছিয়ে এল ওয়াশিংটন। এদিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘৯ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১ আগস্ট থেকে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চালু করতে এগজিকিউটিভ অর্ডারে স্বাক্ষর করবেন প্রেসিডেন্ট।’ বাংলাদেশের উপর অবশ্য সোমবার ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চাপছেই। সোমবারই সেকথা মহম্মদ ইউনুস সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প স্বয়ং।
গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশের উপর পাল্টা শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন। ভারতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত চড়া, ২৬ শতাংশ হারে শুল্ক চাপান তিনি। পরে অবশ্য এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার তারিখ ৯০ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। সহযোগী দেশগুলিকে বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলার জন্য ৯ জুলাইয়ের ডেডলাইন ঘোষণা করেন ট্রাম্প। নানা কারণে সেই কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। অগত্যা নয়া ডেডলাইন ঘোষণা। মঙ্গলবারই জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য মার্কিন সরকার ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ঘোষণা করেছে। এই দুই দেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি অনেক। তাই সামঞ্জস্য আনতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের।
সূত্রের খবর, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে। ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে। বল এবার আমেরিকার কোর্টে। সেই ২০২১-২২ সাল থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪-২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে যায়। সোমবার ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ব্রিটেন এবং চীনের সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি। ভারতের সঙ্গে চুক্তিও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।’ এদিন তিনি আবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা ভারত, পাকিস্তান, সার্বিয়া, কসোভো, রোয়ান্ডা এবং কঙ্গোকে নিরস্ত করেছি। কয়েকটি দেশ আবার লড়াইয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল।’ জানা যাচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা হতে পারে। তবে কৃষি এবং ডেয়ারি পণ্যকে এর বাইরে রাখা হবে।