Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

তেহরানকে চাপে ফেলতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ম্যাডম্যান থিওরি’!

ইরানের সঙ্গে আপাতত সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে আমেরিকা-ইজরায়েল। এই কাজটা যে সহজ হয়নি তা বলাই বাহুল্য। বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানকে চাপে ফেলতে ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ কাজে লাগিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরানকে চাপে ফেলতে মার্কিন  প্রেসিডেন্টের ‘ম্যাডম্যান থিওরি’!
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে আপাতত সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে আমেরিকা-ইজরায়েল। এই কাজটা যে সহজ হয়নি তা বলাই বাহুল্য। বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানকে চাপে ফেলতে ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ কাজে লাগিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

Advertisement

হরমুজ প্রণালী নিয়ে রবিবার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, মঙ্গলবার মার্কিন সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ না খুললে তেহরান ধ্বংস হয়ে যাবে। যদিও হরমুজ খোলা নিয়ে ‘ইতিবাচক’ কোনো বার্তা দেয়নি তেহরান। তবে ট্রাম্প থেমে থাকেননি। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আর সাক্ষাৎকারে হুমকি অব্যাহত রাখেন তিনি। তিনি কখন কী করবেন, সেবিষয়ে আগে থেকে কিছুই বলা যাচ্ছিল না। এই অনিশ্চয়তার আবহে শেষমেশ দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে যায় ইরান। পাগলের মতো ভয় দেখানোর এই পদ্ধতিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় বলা হয় ‘ম্যাডম্যান থিওরি’। 
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় এই তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। প্রতিপক্ষকে লাগাতার ভয় দেখাতে হবে। প্রয়োজনে পরমাণু হামলার হুঁশিয়ারি দিতে হবে। সেটা সফলভাবে করতে পারলেই কাবু হবে শত্রুপক্ষ। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করেই হরমুজ খুলেছেন ট্রাম্প। ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এআই গিলেসপির কথায়, ‘যুদ্ধ থামাতে বারবার চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে যেতে হবে। উলটোদিকে থাকা মানুষটি হামলা চালাবে কি না সেটা বুঝতেই পারবে না শত্রুপক্ষ। ভয় পেয়ে সে চুক্তিতে রাজি হয়ে যাবে। এটাই ম্যাডম্যান থিওরি।’ লন্ডন স্কুল অব ইনিমিক্সের অধ্যাপক পিটার ট্রুবোয়িটজ বলেন, ‘এই অপ্রত্যাশিত আচরণকে নিজের কৌশলগত ও রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত করেছেন ট্রাম্প।’ তবে সবসময় যে এই পদ্ধতি কাজে লাগবে তেমনটা নয়। অধ্যাপক গিলেসপির বক্তব্য, ‘বহুক্ষেত্রে ইরানের মতো স্বৈরাচারী প্রশাসন এই ধরনের হুমকি দেখে ভয় পায় না। উলটে আরও সাহসী হয়ে ওঠে।’ লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন, ‘বারবার এই অস্ত্র প্রয়োগ করলে তার ধার ভোঁতা হতে বাধ্য।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ