ওয়াশিংটন: মাত্র আধঘণ্টার ব্যবধান। দু’টি রহস্যজনক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল মার্কিন নৌসেনা। রবিবার নিয়ম মাফিক টহলদারির সময় দক্ষিণ চীন সাগরে আছড়ে পড়ল নৌসেনার একটি হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান। কপ্টার ও যুদ্ধবিমানের পাইলট-কর্মীদের সময়মতো উদ্ধার করা হয়। পাঁচজনই বর্তমানে সুস্থ। দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন নৌসেনা জানিয়েছে, জোড়া দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে এশিয়া সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। তার আগে দক্ষিণ চীন সাগরের দুর্ঘটনা রীতিমতো চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ওয়াশিংটনকে। যদিও এব্যাপারে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবার টোকিও যাওয়ার পথে তিনি বলেন, ‘খারাপ জ্বালানির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র নেই।’
নৌসেনার বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময়ে রবিবার টহলদারি চালাচ্ছিল এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টার। চপারটি হেলিকপ্টার মেরিটাইম স্ট্রাইক স্কোয়াড্রন (এইচএসএম) ৭৩-এর ‘ব্যাটল ক্যাটস’ বাহিনীর অংশ। আচমকা দুপুর ২টো ৪৫ নাগাদ কপ্টারটি দক্ষিণ চীন সাগরে ভেঙে পড়ে। তড়িঘড়ি পাইলট সহ হেলিকপ্টারে থাকা তিনজনকে উদ্ধার করেন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ১১-এর সদস্যরা। সি হকের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিটজ থেকে উড়ান শুরু করেছিল এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট ফাইটার। স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন (ভিএফএ) ২২-এর অংশ এই যুদ্ধবিমান। কপ্টার দুর্ঘটনার আধঘণ্টা পরে সেটিও সাগরে আছড়ে পড়ে। সময়মতো যুদ্ধবিমান থেকে বেরিয়ে যান দুই সদস্য। পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। প্রসঙ্গত, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজের তালিকায় উল্লেখযোগ্য ইউএসএস নিমিটজ। এটি মার্কিন নৌসেনার সবথেকে পুরনো যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী। আগামী বছর বাহিনীর এই প্রবীণ সদস্যকে বিদায় জানাবে নৌসেনা। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা চালায় হুথিরা। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শিক্ষা দিতে ওই অঞ্চলে গিয়েছিল নিমিটজ। অভিযান শেষে ওয়াশিংটনের কিটসাপ নৌসেনা ঘাঁটিতে ফিরছিল এই রণতরী। তারমধ্যেই ঘটে গেল দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত সি হক ও ফাইটার নিমিটজ থেকেই উড়েছিল।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন অংশকে নিজেদের বলে দাবি করে চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, মালয়শিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ান। যদিও আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের প্রায় পুরো অংশকেই নিজেদের বলে দাবি করে আসছে বেজিং। চীনা আগ্রাসন থামাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ চীন সাগরে মহড়া চালাচ্ছে মার্কিন নৌসেনা। ট্রাম্পের দেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বিভিন্ন জায়গায় সামরিক পরিকাঠামো পর্যন্ত নির্মাণ করেছে লালফৌজ। তাহলে রবিবারের ঘটনা কি নিছক দুর্ঘটনা? নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? উত্তরের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল।